নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ফেসবুকে মহকুমা শাসকের নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল কৃষ্ণনগরে। ওই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খুইয়েছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। স্কুল শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে কৃষ্ণনগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস।
জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরীর নামে তৈরি একটি ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কিছুদিন আগে ওই প্রধান শিক্ষকের কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। তিনি সন্দেহ না করে তা গ্রহণ করেন। এরপর গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকেই মেসেঞ্জারে শিক্ষকের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। কিছু সময় পরে তিনি তাঁর নম্বর দেন। এরপর মেসেজে জানানো হয়, শারদ্বতী চৌধুরীর এক বন্ধু সন্তোষ কুমার নামে এক সিআরপিএফ অফিসার বদলি হয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি তাঁর ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করতে চাইছেন, যেগুলি খুব ভালো মানের এবং কম দামে পাওয়া যাবে। সেই শিক্ষককে সেগুলি কেনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
ওই শিক্ষক তখন জানান, আমি এখন একটি মিটিংয়ে রয়েছি। পরে কথা বলব। কিছুক্ষণ পরই সন্তোষ কুমার নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে সিআরপিএফ অফিসার বলে পরিচয় দিয়ে এক অজানা নম্বর থেকে ফোন করেন শিক্ষককে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ঘরের আসবাবপত্রের ছবিও পাঠান এবং জানান, সব মিলিয়ে দাম পড়বে ৮৫ হাজার টাকা। শিক্ষক সেই আসবাবপত্র কিনতে রাজি হন। এরপর তিনি বলেন, অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। শিক্ষক প্রথমে ১০ হাজার টাকা পাঠান। তারপরে আসবাবপত্র প্যাকিংয়ের ছবি এবং রোড চালানের ছবি পাঠিয়ে আরও ২০ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। একই সময় মহকুমা শাসকের ভুয়ো মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকেও ওই টাকা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
ততক্ষণে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। শিক্ষক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং মহকুমা শাসকের ফেসবুক মেসেঞ্জারেও বার্তা পাঠান। কিন্তু সেখান থেকে আর কোনও উত্তর মেলেনি। ওই ‘সিআরপিএফ অফিসার’ নামধারী ব্যক্তির ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষক কৃষ্ণনগরের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রতারিত শিক্ষক অরুণ কুমার দে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে মহকুমা শাসকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে আমার কাছে। তারপর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে কয়েকদিন আগে মেসেজ করা হয়। তাতে বলা হয়, ওঁর একজন বন্ধু ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁর আসবাবপত্র বিক্রি করে দিতে চান। আমি রাজি হলে বলা হয় যে সিআরপিএফের গাড়ি করে আসবাবপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আমাকে কুড়ি হাজার টাকা দিতে বলা হয়। পরে আমি বুঝতে পারি, আমি প্রতারিত হয়েছি। মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বহু মানুষ আমাকে ফোন করে জানাচ্ছেন যে তাঁদের কাছে এই ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ যাচ্ছে। আমার নিজের আসল ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও আমি এই ভুয়ো প্রোফাইলের কথাটা লিখেছি। এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার কথাও আমি সকলকে জানিয়েছি। এটাই এসডিওর ভুয়ো অ্যাকাউন্ট।