সংবাদদাতা, মানকর: আদিবাসী অধ্যুষিত কাঁকসার সুন্দিয়ারা গ্রামের পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য জমি দান করেছিলেন বৃদ্ধা কনকলতা ঘোষ। তাঁর দান করা সতেরো শতক জমিতে বিদ্যালয় নির্মিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বাদেও তা চালু হয়নি। এলাকার বাসিন্দাদের আক্ষেপ, প্রাথমিকের পর গ্রামে পড়ার চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনও স্কুল নেই। বাইরের স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। সেই খরচ ও ধকল সামলাতে না পেরে অনেকেই মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেয়। গ্রামেই স্কুল চালু হলে সুন্দিয়ারা সহ সংলগ্ন এলাকার পড়ুয়ারা উপকৃত হতো।
ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের এই গ্রামের পড়ুয়াদের প্রাথমিকের পাঠ শেষ করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ত্রিলোকচন্দ্রপুরে পড়তে যেতে হয়। এতটা রাস্তা খুদে পড়ুয়ারা যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। অনেকেই পড়া বন্ধ করে দেয়। সকলেই চাইছিলেন, গ্রামে অন্তত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার মতো স্কুল চালু হোক। কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রথম সমস্যা ছিল জমি। কনকলতা দেবী জমি দান করে সেই সমস্যার সমাধান করেন। তাঁর ছেলে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গোপালবাবু বলেন, মা চেয়েছিলেন গ্রামের ছেলেমেয়েরা গ্রামেই পড়াশোনা করুক। সে জন্য সতেরো শতক জমি দানপত্র করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই জমিতে বিদ্যালয়ের ভবনও নির্মাণ হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও বিদ্যালয় চালু হয়নি। মায়ের স্বপ্নও পূরণ হয়নি। এলাকার ছেলেমেয়েদের দূরেই পড়তে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে। বাইরের স্কুলে পড়াশোনা করানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই। আমরা ভেবেছিলাম এখানে বিদ্যালয় গড়ে উঠলে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘুচবে। কিন্তু তা তো হয়েও হল না। ওই জমিতে শুধু দুটো ঘর করা হয়েছে। সেই ঘরে এখন কুকুর, ছাগলের বাস। স্কুল পরিদর্শক সুদীপ সরকার বলেন, আগে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ক্লাস হতো। যে অতিথি শিক্ষক পড়াতেন, তিনি অবসর নিয়েছেন। তারপর থেকে স্কুল বন্ধ। অন্য শিক্ষক আর পাওয়া যায়নি। নতুন নিয়োগ হলে তখন আবার চালু হবে।-নিজস্ব চিত্র