নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক স্কুল ছাত্রীর। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার ইটলা এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। মৃত নাবালিকার নাম গীতা বিশ্বাস (১৪)। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা লরিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নেভায়। এদিন রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গীতা নবম শ্রেণীর ছাত্রী। চকদিগনগর পঞ্চায়েতের ইটলা এলাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করত বাড়ি ইটলা এলাকার দক্ষিণপাড়ায়। জাতীয় সড়ক পার করে পাইকপাড়ায় সে প্রতিদিন প্রাইভেট পড়তে যেত। এদিনও প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। সঙ্গে ছিল তার এক বান্ধবী। ইটলার কাছে জাতীয় সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিল সে। অভিযোগ, কৃষ্ণনগর থেকে শান্তিপুরের দিকে যাওয়া একটা বালির লরি ভুল লেন দিয়ে দ্রুতগতিতে এসে তাকে ধাক্কা মারে। লরির পাশের দরজা খোলা ছিল। তাতেই প্রথম ধাক্কা লাগে। গীতা পড়ে যায়। তখনই লরিটি পিষে দেয়।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দুরেই ঘাতক লরিতে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। লরিটি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। যদিও লরির চালককে ধরা হয়নি।
গীতার জেঠু উত্তম বিশ্বাস বলেন, ‘গীতা খুব শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। রবিবার প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় বান্ধবীর সঙ্গে জাতীয় সড়ক পার হচ্ছিল সে। সেই সময় ভুল লেন ধরে আসা একটি লরি ওকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই ওর মৃত্যু হয়। এইভাবে ওকে হারাতে হবে আমরা কেউ ভাবতে পারছি না। ওর বান্ধবী অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল।’ স্থানীয় বাসিন্দা সুদেব হালদার বলেন, ‘লরিটি কৃষ্ণনগরের দিক থেকে শান্তিপুরের দিকে যাচ্ছিল। বালি বোঝাই করা ছিল লরিতে। ভুল লেনে ধরে লরিটি আসছিল। সেই কারণেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গীতা।’