Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গঙ্গার গ্রাসে কালুটোনটোলা স্কুল, বাঁধে আশ্রয় প্রায় ৫০০ পরিবারের

ভূতনিতে গঙ্গার গ্রাসে কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবনহীন প্রায় ১৪২ ছাত্রছাত্রীকে স্থানান্তর করা হল পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিদ্যালয়ে। অন্যদিকে বেড়েই চলেছে গঙ্গার জলস্তর।

গঙ্গার গ্রাসে কালুটোনটোলা স্কুল, বাঁধে আশ্রয় প্রায় ৫০০ পরিবারের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনিতে গঙ্গার গ্রাসে কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবনহীন প্রায় ১৪২ ছাত্রছাত্রীকে স্থানান্তর করা হল পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিদ্যালয়ে। অন্যদিকে বেড়েই চলেছে গঙ্গার জলস্তর। চরম বিপদসীমা থেকে প্রায় ৬৯ সেন্টিমিটার উপরে বইছে গঙ্গা। ভূতনির পাঁচটি গ্রামের প্রায় পাঁচশোটি পরিবার বাস করছে বাঁধের উপর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্না করা খিঁচুড়ি এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, শৌচাগারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, দুর্লভটোলা গ্রামে ঢুকতে শুরু করেছে গঙ্গার জল। বন্যার আতঙ্কে ভূতনির বাসিন্দারা।

Advertisement

মালদহ জেলাজুড়ে প্রতিটি নদীতে লাগাতার জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জলস্তর। জল বাড়ায় গঙ্গা নদীতে জারি হয়েছে লাল, ফুলহারে হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। বিপদসীমার কাছাকাছি বইছে মহানন্দা নদী। যার ফলে মানিকচক ও রতুয়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। একই পরিস্থিতি ভূতনি, উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের কেশরপুর কালুটোনটোলা,বসন্তটোলা, গদাইচর,পশ্চিম রতনপুর গ্রামের। এই গ্রামগুলির বাসিন্দারা বাস করছেন ভূতনির রিং বাঁধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সেখানে থাকার জন্য ত্রিপল ও রান্নার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যদিও বারবার খাদ্য সামগ্রী ও শৌচাগারের দাবি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছিলেন দুর্গতরা। সেই দাবি মেনে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে শৌচাগার নির্মাণের কাজ চলছে। তবে, মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্গতরা। স্থানীয় গৃহবধূ ফেকিয়া চৌধুরী বলেন, অতি নিম্নমানের শৌচাগার করা হচ্ছে। তাছাড়া সেগুলি খুবই ছোট। এমনভাবে কাজ হলে অল্পদিনের মধ্যেই পরিপূর্ণ হবে শৌচাগারটি। 
অন্যদিকে, সোমবার বিকেলে গঙ্গা ভাঙনে তলিয়ে যায় কালুটোনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত কয়েকদিন ধরে জলমগ্ন ছিল বিদ্যালয়টি। নদী থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে থাকার পর গতকাল নদীগর্ভে তলিয়ে যায় সেটি। মানিকচক চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মহম্মদ পারভেজ বলেন, কিছুদিন আগে গঙ্গা বিদ্যালয়টির একেবারে পাশে চলে আসার সময়ই সামগ্রী ও প্রায় ১৪২ জন ছাত্রছাত্রীকে পার্শ্ববর্তী ভুবনটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই তাদের পঠনপাঠন ও মিডডে মিল চলছে।
এর মধ্যেই ভূতনির দুর্লভটোলা গ্রামের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে গঙ্গা নদীর জল। বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। অভিযোগ, বালির বস্তার বাঁধের নীচ দিয়ে জল ঢুকছে গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাত মণ্ডল বলেন, নতুন রিং বাঁধের প্রায় অর্ধেক বরাবর রয়েছে গঙ্গা। বাঁধ নতুন থাকায় নীচ দিয়ে জল ঢুকছে এলাকায়। জানি না এই বাঁধ কতদিন গঙ্গার জল আটকাতে পারবে।
বন্যা পরিস্থিতিকে ঘিরে মানিকচক ব্লক প্রশাসনিক ভবনে জেলাশাসক ও বিধায়কের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, বেশকিছু এলাকার জলমগ্ন হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের রান্না করা খাবার দেওয়া হবে। পানীয় জল, বিদ্যুতের ব্যবস্থা ও শৌচাগার করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি ত্রাণকেন্দ্র খোলা হবে। 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ