নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অবসর নেওয়ার আগে প্রধান শিক্ষকের পেনশনের নথিতে সই করেননি স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি। বিডিওর কাছে নালিশ করেও কাজ হয়নি। শেষমেশ নিজের স্কুলে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবিরে মাটিতে কাগজ বিছিয়ে ধর্নায় বসলেন প্রধান শিক্ষক কংসারী ভৌমিক। সোমবার কোলাঘাট ব্লকের সাগরবাড় বান্ধব সত্যেশ্বর হাইস্কুলে ওই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে হুলস্থুল পড়ে যায়। আধ ঘণ্টা ধর্নার পর স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি সুমিতকুমার বেরা স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের পেনশনের নথিতে সই করেন। সরকারি প্রোগ্রামে ধর্নায় বসে পেনশনের নথিতে সই করানোর ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তুমুল চর্চা চলছে।
আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসর নেবেন কংসারীবাবু। তার আগে পেনশনের ফাইলপত্র রেডি করে জমা করতে হয়। সহ শিক্ষকদের পেনশন সংক্রান্ত ফাইলে প্রধান শিক্ষক সই করেন। আর প্রধান শিক্ষকের পেনশনের ফাইলে সই করেন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি। প্রায় দু’ সপ্তাহ আগে কংসারীবাবু তাঁর পেনশনের ফাইলে সই করার জন্য সুমিতবাবুকে বললেও তিনি কর্ণপাত করেননি। তারপর ধারাবাহিকভাবে এনিয়ে তদ্বির করার পরও তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে প্রধান শিক্ষক কোলাঘাটের বিডিওর কাছে নালিশ করেন। তাতেও সমাধান হয়নি। এরপরই ১১আগস্ট নিজের স্কুলে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি চলাকালীন তিনি ধর্নায় বসবেন বলে প্রশাসনকে আগাম জানিয়ে রাখেন।
সোমবার প্রধান শিক্ষক সত্যিই ধর্নায় বসায় হইচই পড়ে যায়। বিডিওকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়। ব্লক প্রশাসন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে তিনি এসে সই করে যাবেন বলে জানানো হয়। একইসঙ্গে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতিকে একবার ফোন করে স্কুলে আসার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়। সেইমতো কংসারীবাবু তাঁকে ফোন করেন। কিন্তু, সুমিতবাবু রিসিভ করেননি। ওই ঘটনার ১০ মিনিট বাদে স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের নথিতে সই করেন।
জানা গিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে স্কুল পরিচালন কমিটির ইগোর লড়াইয়ে জেরে এমন ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষকের পেনশনের ফাইলে সই না করে নিজের ক্ষমতা জাহির করেন সভাপতি। পাল্টা কংসারীবাবুর পক্ষে দাঁড়ান পূর্ব মেদিনীপুরের প্রধান শিক্ষকদের একটা বড় অংশ। কোলাঘাটের দেড়িয়াচক শ্রীঅরবিন্দ বিদ্যামঠের প্রধান শিক্ষক নির্মলেন্দু ঘড়া বলেন, সাড়ে ২১ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ সামলানো কংসারীবাবুর সঙ্গে এই আচরণ অনিভপ্রেত। পেনশনের ফাইলে সই না করে হয়রানির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে কোনও কৃতিত্ব নেই।
কংসারীবাবু বলেন, গত দু’ সপ্তাহ ধরে আমি পেনশনের ফাইলে সই করানোর জন্য স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতিকে বলেছি। তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ব্লক প্রশাসন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানিয়েও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিই। তাতে কাজ হয়েছে।
সুমিতবাবু বলেন, আমার এক আত্মীয় নার্সিংহোমে ভর্তি। আমি তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক আমাকে ফোন করেছিলেন। সোমবার আমি সই করে দেব বলে বলেছিলাম। সেইমতো সোমবার আমি স্কুলে গিয়ে সই করি। আমাদের মধ্যে কোনও ইগোর লড়াই নেই। উনি কেন ধর্নায় বসেছেন সেটাও আমার জানা নেই।