সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই স্কুলে পৌঁছে যায় খুদে পড়ুয়ারা। বাবা ও মায়েরা কাজে যাওয়ার পথে ছেলেমেয়েদের স্কুলের সামনে ছেড়ে দিয়ে চলে যান। কেউ হেঁটে, কেউ সাইকেল চালিয়ে নিয়ম মতো স্কুলে আসে। কিন্তু স্কুলে ঢুকতে পারে না। সময় মেনে স্কুলে পৌঁছলেও স্কুলের ভিতরে ঢোকার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় আরও কিছুক্ষণ। গেট না খোলায় স্কুলের বাইরে রাস্তার উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে কচিকাঁচারা।
বুধবারও একই চিত্র দেখা যায় মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মেডিক্যাল মোড়ে ঠিকনিকাটা জুনিয়র বেসিক স্কুলে। তবে, অন্যদিনের তুলনায় স্কুলের গেট খুলতে একটু বেশি দেরি হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রী বাড়ি ফিরে যায়। তারা বলতে থাকে, আজ তো বন্ধ। দোকানপাট বন্ধ। তাহলে বোধহয় আমাদের স্কুলও ছুটি। একথা বলে কয়েকজন বাড়ির পথে হাঁটা দেয়। ঘড়িতে তখন সকাল ১০টা ৫০ মিনিট। হন্তদন্ত হয়ে বাইক ছুটিয়ে এক ব্যক্তি আসতেই ছাত্রছাত্রীরা সমস্বরে চিৎকার করে বলে, স্যার এসেছেন, স্যার এসেছেন। তড়িঘড়ি গেট খুলে দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ক্লাসে যাওয়ার জন্য তাড়া দেন ওই শিক্ষক। তাড়াতাড়ি ক্লাস খুলে বসার নির্দেশ পেতেই খুদে পড়ুয়ারা হইহই করে স্কুলের মাঠ পেরিয়ে যে যার জায়গায় বসে পড়ে।
অভিযোগ, এই স্কুলে এরকম দৃশ্য প্রতিদিনের। সকাল ১১টায় ক্লাস শুরু হয়। সেই মতো সাড়ে ১০টায় স্কুল খুলে দেওয়ার কথা। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্রছাত্রীরা সাড়ে ১০টার মধ্যেই নিয়মমতো স্কুলের গেটে পৌঁছে যায়। স্কুলের গেট না খোলায় এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে খুদে পড়ুয়ারা। কিন্তু এটাই নাকি নিয়ম জানান ওই শিক্ষক। স্কুলে মোট চারজন শিক্ষক। তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি না বলেই স্কুলে ঢুকে যান।
এমন ঘটনায় বিস্মিত শিলিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপ রায়। তিনি বলেন, সকাল ১১টা থেকে স্কুল চালু হয়। কিন্তু এভাবে ছাত্রছাত্রীদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা ঠিক নয়। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্কুলের গেট খুলে দেওয়ার কথা। আমাদের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পিওন নেই। তা বলে এত দেরি করে স্কুলের গেট খোলা যাবে না। খোঁজ নিয়ে এর সমাধান করব।