Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিমের দাম বেড়ে আট টাকা! সরকারি বরাদ্দ সাড়ে ৬ টাকা, পড়ুয়াদের পাতে ডিম দিতে নাভিশ্বাস

খুচরো বাজারে ডিমের দাম বাড়ায় মিড ডে মিলে জোগান নিয়ে চিন্তায় পড়েছে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় এনিয়ে চরম অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ডিমের দাম বেড়ে আট টাকা! সরকারি বরাদ্দ সাড়ে ৬ টাকা, পড়ুয়াদের পাতে ডিম দিতে নাভিশ্বাস
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: খুচরো বাজারে ডিমের দাম বাড়ায় মিড ডে মিলে জোগান নিয়ে চিন্তায় পড়েছে স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় এনিয়ে চরম অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে জঙ্গলমহলে প্রতি পিস পোল্ট্রির ডিম আট টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারি বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছ’টাকা। এহেন অবস্থায় অবিলম্বে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষক ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সরব হয়েছেন।

Advertisement

বাঁকুড়া মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র ঘোষ বলেন, আমাদের স্কুলে গড়ে ১৫০জন ছাত্র মিড ডে মিল খায়। তারজন্য আমরা ১৫০০টাকা বরাদ্দ পা‌঩ই। রান্নার গ্যাস, মশলা ও আনাজপাতি কিনতেই ওর থেকে বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়। ডিম দিতে গেলে আরও বেশি টাকা লাগবে। সরকার বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে ভালো হয়। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ব্যয়বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের এক্তিয়ারে পড়ে না। তবে, ডেপুটেশন বা অন্যান্য দাবিদাওয়া আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থাকি।
মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের ডিম দিতে গিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরও নাভিশ্বাস উঠছে। তার জেরে মঙ্গলবার রঘুনাথপুর-২ ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা মিড ডে মিলের টাকা বাড়ানোর দাবি জানান। এদিন ব্লকের শতাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর তরফে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গর্ভবতী মহিলা ও বাচ্চাদের মিড ডে মিল দেওয়া হয়। মিড ডে মিলে প্রতিদিন ডিম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ টাকার চেয়ে ডিমের দাম বেশি হওয়ায় কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ছ’দিন মিড ডে মিল দেওয়া হয়। তিন দিন খিচুড়ি ও ডিম দেওয়া হয়। বাকি তিন দিন ভাত, আলু-সবজি ও ডিমসিদ্ধ দেওয়া হয়। গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের ছ’দিনই গোটা ডিম দেওয়া হয়। বাচ্চাদের তিনদিন করে অর্ধেক ও গোটা ডিম দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অভিযোগ, একটি ডিমের জন্য সরকার সাড়ে ছ’টাকা দিচ্ছে। কিন্তু বাজারে এখন ডিমের দাম প্রায় আট টাকা। শুধু তাই নয় বাচ্চাদের সবজির জন্য ১১ পয়সা দেওয়া হয়। যে তিনদিন ভাত দেওয়া হয়, সেদিন বাচ্চাদের জন্য কোনও সবজি বরাদ্দ থাকে না। তা সত্ত্বেও কর্মীরা শিশুদের সবজি দেন। জ্বালানি বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত কম। এমনকি, তিন মাসের বিল জমা দিলে এক মাসের টাকা পাওয়া যায়। আবার একদিন ডিম না দিলে কর্মীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়।
বিক্ষোভকারী অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শম্পা বন্দ্যোপাধ্যায়, মিঠু মুখোপাধ্যায়, রিনা সিনহা বলেন, বরাদ্দ অর্থের চেয়ে বেশি টাকায় ডিম কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রান্নার সরঞ্জাম কেনার জন্য কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে কতদিন কাজ চালাব? ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ