Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এটিএম মেশিনে স্ক্যামার, টাকা হাতানোর ছক, মহম্মদবাজারে গ্রেপ্তার আসানসোলের যুবক

কলকাতা, বর্ধমান সহ একাধিক জায়গার পর এটিএম প্রতারকের নজরে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার। প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ডিভাইস বা স্ক্যামার বসিয়ে এটিএম মেশিন থেকে টাকা লুটের ছক কষা হয়েছিল।

এটিএম মেশিনে স্ক্যামার, টাকা হাতানোর ছক, মহম্মদবাজারে গ্রেপ্তার আসানসোলের যুবক
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কলকাতা, বর্ধমান সহ একাধিক জায়গার পর এটিএম প্রতারকের নজরে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার। প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ডিভাইস বা স্ক্যামার বসিয়ে এটিএম মেশিন থেকে টাকা লুটের ছক কষা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে হানা দিয়ে প্রতারকের ছক ভেস্তে দিল পুলিস। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম মেশিনে ডিভাইস বসানোর সময় প্রতারককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল মহম্মদবাজার থানার পুলিস। ধৃতের নাম বিশাল বাউড়ি। সে আসানসোলের বাসিন্দা। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি প্লাস্টিকের বিশেষ ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সোমবার ধৃতকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় তদন্তে কলকাতার সাইবার ক্রাইম উইংয়ের সহযোগিতা নেওয়া হবে। 

Advertisement

গ্রাহকদের নজর এড়িয়ে প্রতারণার জাল ফেঁদে এটিএম মেশিন থেকে টাকা হাতানো কোনও নতুন ঘটনা নয়। একাধিক সময় রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে এমন একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার মহম্মদবাজারে এই জালিয়াতি রুখল পুলিস। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, যেসব এটিএমে বেশি আর্থিক লেনদেন হয়, সেগুলিই মূলত টার্গেট করছে প্রতারকরা। পরবর্তী ধাপে লুকিয়ে এটিএম মেশিনের মানি উইথড্রয়াল স্লট বা টাকা বেরনোর জায়গায় প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ডিভাইস বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এই কারসাজিতে গ্রাহক টাকা তোলার জন্য এটিএম মেশিনে পিন দেওয়ার পরও নোট হাতে পাবেন না। অথচ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ডেবিট হয়ে যায়। অত্যন্ত সুকৌশলে ওই স্ক্যামার বসানোয় কারও কোনও সন্দেহও হয় না। গ্রাহক চলে গে঩লেই সেই টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট এটিএমে বিশেষ ডিভাইস লাগিয়ে দেওয়ার পর প্রতারক আশপাশেই ঘাপটি মেরে বসে থাকে। কেউ এটিএমে পৌঁছলেই সে সতর্ক হয়ে যেত। অপেক্ষা চলত গ্রাহকের চলে যাওয়ার। এরপরই ওই ডিভাইসে আটকে থাকা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে সাইবার থানা ইতিমধ্যে সহযোগিতা করছে। তদন্তে গতি আনতে কলকাতার সাইবার ক্রাইম উইংয়ের সহযোগিতাও নেওয়া হবে। 
পুলিস জানাচ্ছে, এই প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। টাকা তোলার আগে নির্দিষ্ট এটিএম মেশিনে এধরনের কোনও ডিভাইস লাগানো রয়েছে কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে। তবে শুধু মানি উইথড্রয়াল স্লট নয়, প্রয়োজনে এটিএম কার্ড ঢোকানোর স্লটেও নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে। কোনও সন্দেহ হলেই আশপাশের থানায় বিষয়টি জানানোর কথাও বলা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই জালিয়াতির পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত বিশাল এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম মাথা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ