সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: খুড়শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। অভিযোগ, বাদশা গাজি নামে ওই ব্যক্তি খোয়ারডাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
অভিযোগ, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে বাদশা। এরপর খোয়ারডাঙায় থাকা তার কাকাশ্বশুর আব্দুল মিয়াঁকে বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন তিনি। আরও অভিযোগ, ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে খুড়শ্বশুরের ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য নথি সংগ্রহ করেছিল অভিযুক্ত বাদশা গাজি। সেই ভোটার কার্ড ব্যবহার করে সে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলে। যদিও এই বিষয়ে বাদশা বলেন, আমার বাবা ও মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। আমার কাছে সেই নথি রয়েছে। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
বাদশার খুড়শ্বশুর আব্দুল মিয়াঁ বলেন, বাদশা সম্পর্কে আমার ভাইঝি জামাই। ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার নথিপত্র নিয়েছিল সে। এরপর শুনি, সেই নথিপত্র দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। বিষয়টি আমি আগে জানতাম না।
বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওরাওঁ। তিনি বলেন, এর জন্যই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রয়োজন ছিল। আমরা বারবার এ কথা বলে আসছি যে, ভোটার তালিকায় প্রচুর বাংলাদেশির নাম রযেছে। শুধু খোয়ারডাঙা নয়, সারা রাজ্যের নানা স্থানে এমন বহু ঘটনা সামনে আসবে।
এই বিষয়ে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সহ সভাপতি ধীরেশচন্দ্র রায় বলেন, বাদশা গাজি যদি বাংলাদেশি হন তাহলে তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকার কথা নয়। তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য যেহেতু এই বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন, তাই সেই অভিযোগের বাস্তবতা থাকতেও পারে। তথ্য দিয়ে সেটা প্রমাণ হবে যে, ওই ব্যক্তি সত্যিই বাংলাদেশি কি না।