Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁদ যখন ম্যাট্রিমনি অ্যাপ! বিদেশে মধুচন্দ্রিমার টোপ, নিঃস্ব ধনী মহিলারাও

বিয়ের পরই হানিমুন হবে থাইল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায়। মাসের শেষে গোয়া, কাশ্মীর বা দার্জিলিং ট্যুর। বুক করা হবে ফাইভ স্টার হোটেল।

ফাঁদ যখন ম্যাট্রিমনি অ্যাপ! বিদেশে মধুচন্দ্রিমার টোপ, নিঃস্ব ধনী মহিলারাও
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিয়ের পরই হানিমুন হবে থাইল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায়। মাসের শেষে গোয়া, কাশ্মীর বা দার্জিলিং ট্যুর। বুক করা হবে ফাইভ স্টার হোটেল। অন্দরে পার্টি-হুল্লোড়। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে বিলাসবহুল গাড়ি। যখন যেখানে খুশি বেড়িয়ে আসতে  পারো। বিয়ে মানেই এনজয় আর এনজয়! ম্যাট্রিমনি অ্যাপসে এমনই সব লোভনীয় অফার দিত ভণ্ড নামধারী সাহিদ, জামিররা। কে না চায়, নব-দাম্পত্যের এহেন সুখ-বিহার! বিশেষ করে তাঁরা যদি হয় জীবন-যন্ত্রণায় কাতর কোনও মহিলা। স্বাভাবিকভাবেই জামিরদের টোপ গিলে নিতেন ডিভোর্সি কিংবা বিয়ের বয়স সামান্য পেরিয়ে যাওয়া সুবেশা তরুণীরা। আর একবার টোপ গিললেই জামিরদের কেল্লাফতে! সোনার গয়না এবং মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ। তারপর একদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হাজারো স্বপ্ন দেখানো হবু বর হাওয়া! সর্বস্ব খুইয়ে মাথায় হাত মহিলাদের। বুঝতে পারলেন তিনি বা তাঁরা প্রতারিত। ততদিনে জামিররা ম্যাট্রিমনি সাইটে ফের হাজির ভিন্ন নামে!বর্ধমানে ‘ম্যাট্রিমনি চিটিংবাজি’-এর তদন্তের জাল যত গুটিয়ে আনছে পুলিশ, ততই বেরিয়ে আসছে জামির, সাহিদদের নানা চাঞ্চল্যকর কীর্তি। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গোটা দেশেজুড়ে তারা প্রতারণা করেছে অনুপম রায় এবং রাজ পরিচয় দিয়ে। ত্রিপুরা, অসম, ঝাড়খণ্ড সহ একাধিক রাজ্যের প্রায় ৫০ জন যুবতী এবং ডিভোর্সি তাদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রতারিতদের মধ্যে সিংহভাগই অবস্থাপন্ন বাড়ির মহিলা। তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডির্ভোসি মহিলারা জামিরদের ফাঁদে পড়েছেন। 

Advertisement

শিকার ধরতে জামিররা কীভাবে ফাঁদ পাতত? পুলিশকে এক প্রতারিত মহিলা জানিয়েছেন, বিয়ের জন্য তিনি বিশেষ একটি অ্যাপসে ঢুকে নিজের প্রোফাইল খুলেছিলেন। সেখানেই জামির আব্বাস নিজেকে অনুপম রায় পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে নিজের গোত্রও জানিয়েছিল। নিজেকে বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিল। দেশজুড়ে তার ব্যবসা। অঢেল টাকা। আমদানি, রফতানির ব্যবসা থেকেও প্রচুর টাকা আয়। বিলাস-বৈভব জীবন।  ‘মেঘ না চাইতে জল’-এর মতো ভিডিও কল করত। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাত প্রাসাদোপম বাড়ি। বাইরে দাঁড়িয়ে চার-পাঁচটা বিদেশি গাড়ি। পুলিশের কাছে ওই মহিলার দাবি, প্রথম প্রথম মনে খটকা লাগত। কিন্তু ভিডিও কলে ওইসব ছবি দেখার পর অদ্ভুত এক আবেশ তৈরি হতো মনে। ওই যুবকের সব কথা তখন বিশ্বাস করে ফেলতাম। রাতেও দীর্ঘক্ষণ কথা হতো। এভাবে চলতে চলতে আচমকা একদিন সে জানায়, ব্যবসায় ১০ কোটি টাকা লোকসান হয়ে গিয়েছে। বন্ধুদের কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া গিয়েছে। এখনও প্রায় এক কোটি টাকা দরকার। সোনার গয়না আছে কি না জানতে চায়। সরল মনে মহিলা তাকে জানিয়ে দেন, ২৮ ভরি অলঙ্কার রয়েছে। জানানো মাত্রই প্রস্তাব দেয়, স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় গয়নাগুলি রেখে ঋণ নেবে। মাস দু’য়েকের মধ্যেই ব্যবসা ঠিকঠাক হয়ে যাবে। ঩লোন পরিশোধ করে গয়না ফিরিয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাড়তি কিছু অলঙ্কারও বানিয়ে দেওয়া হবে। বিয়ের সময় তো এমনিতেই লাগবে! মহিলা পুলিশকে বলেন, বিশ্বাস করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ওকে দিয়ে দিই। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে দিয়েছিলাম। অনেক পরে জানতে পারি, ওই যুবক ধর্ম বা নিজের পরিচয় ভুল বলেছিল। প্রতিবাদ করতেই সে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে ব্লক করে দেয়। তখনই বুঝতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি। তারপরই থানায় অভিযোগ করি। এই মহিলা একটি উদাহরণ মাত্র। জামিরদের পাতা ফাঁদে জড়িয়েছেন এরকম বহু সুন্দরী তরুণী কিংবা ডিভোর্সি। তদন্তে ফাঁস হচ্ছে একের পর এক ঘটনা। (চলবে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ