নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন বহরমপুরের বেশ কিছু এলাকা। প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ। বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলমগ্ন হয়েছে। এমনিতেই লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে জল জমছিল এলাকায়। তার মধ্যেই তিলপাড়া ব্যারাজ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ জলে বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙে বিপত্তি চরমে। বহরমপুর ব্লকের সাটুই চৌরিগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। বহরমপুর থেকে শক্তিপুর যাওয়ার রাস্তাও জলের তলায় চলে গিয়েছে। গ্রামের মাঠগুলি জল থইথই করছে। বৃহস্পতিবারও দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বাড়িতে জল ঢোকার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিবারকে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন গ্রামে যাওয়ার রাস্তা যেমন জলের তলায় চলে গিয়েছে, তেমনই বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। ধান সহ সব্জি ও বিভিন্ন ফসল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডল বলেন, জল ঢোকার আগে থেকে আমরা নদী বাঁধ পরিদর্শন করেছিলাম। জল যাতে না ঢোকে সেই জন্য ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছিল। তবে তিলপাড়া ব্যারাজের জল যেভাবে ছাড়া শুরু করল তাতে আর রক্ষা করা গেল না। বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের তলায়। বুধবারও আমরা এলাকায় খাবার দিয়ে এসেছি। মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খাবার থেকে ওষুধ ও ত্রিপল সব কিছু দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধের উপর কিছু পরিবার বাস করে। তাদের ক্ষতি হয়েছে। তাদের সরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব রকমভাবে জেলা প্রশাসন জলমগ্ন এলাকার মানুষের পাশে আছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বুধবার নাটাতলা চৌরিগাছায় বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙেছে। যার জেরে গ্রামের মাঠ জলমগ্ন। তবে এখনও গ্রামের বসতি প্লাবিত হয়নি। আমরা নজরদারি চালাচ্ছি। ব্লক থেকে পরিদর্শক দল ওই এলাকায় গিয়েছিল।
মুর্শিদাবাদের সেচদপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, জলের চাপে বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙেছে। যার জেরে নাটাতলা চৌরিগাছার বিভিন্ন মাঠে এবং বিলে জল ঢুকছে। তবে এখনও গ্রামে জল ঢোকেনি। বাবলা নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। সাটুই চৌরিগাছা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ভাগীরথীতেও প্রচুর জল রয়েছে। ফলে বাবলার জল ভাগীরথী দিয়ে যতটা নামার কথা ততটা নামছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বহরমপুরের সাটুই চৌরিগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের শেষ এবং বেলডাঙা-২ ব্লকের কামনগর গ্রাম পঞ্চায়েত শুরু এমন জায়গায় বহরমপুর থেকে শক্তিপুর যাওয়ার রাস্তা জলের তলায় গিয়েছে। পোড়াডাঙা জলমগ্ন হয়েছে। সাটুই থেকে শ্রীকৃষ্ণপুর যাওয়ার রাস্তাও জলের তলায়। মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। ধান চাষের জমি সবই জলের তলায়।
জেলা পরিষদের সদস্য সৌমিত্র মণ্ডল বলেন, বাবলা নদীর বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। আমরা মানুষের পাশে আছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পাশাপশি দলের তরফে মানুষকে যথাসাধ্য সাহায্য করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দল এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিল। আমরাও বারবার মানুষের কাছে যাচ্ছি। জলমগ্ন সাটুই চৌরিগাছা। নিজস্ব চিত্র