সংবাদদাতা, বহরমপুর: বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মানের খেতাব এবারও ধরে রাখতে চায় বহরমপুরের অযোধ্যানগর সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। সেই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে এবার মণ্ডপসজ্জায় তুলে আনা হচ্ছে নেপালের কাঠমাণ্ডুর দরবার স্কোয়ার পাটনের কৃষ্ণমন্দির। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মন্দিরের স্থাপত্যবিশিষ্ট এই থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ত্রিনয়নী তৃতীয় দৃষ্টি’।
এই থিম গড়ার জন্য নেপালে গিয়ে ওই মন্দিরের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে এনেছেন মণ্ডপশিল্পী দীপক কর্মকার। ৮০ফুট উচ্চতার মণ্ডপে ‘মায়ের বাড়ি’তে থাকছে ১৬ফুট উঁচু সাবেকি দেবীপ্রতিমা। পুজো কমিটির সভাপতি সূর্যকান্ত সরকার বলেন, ৮১তম বর্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বিশেষ চমক থাকছে। চতুর্থীতে পুজো উদ্বোধন হবে। প্রতিযোগিতার দৌড়ে কাউকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়া হবে না।
অযোধ্যানগর পুজো কমিটি এর আগে নানা থিমের মণ্ডপ গড়ে জেলায় আলোড়ন ফেলেছিল। অযোধ্যার রামমন্দির, ড্রাগন টেম্পল, ফরাসি স্থাপত্য, দুবাইয়ের হিন্দু মন্দির, গুজরাটের আরাধনা ধাম তার মধ্যে অন্যতম। ২০২৪সালে এই পুজো বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পেয়েছে। পুজো কমিটির সম্পাদক গোপাল সাহা বলেন, গতবছর বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মানের পাশাপাশি আমাদের ঝুলিতে প্রায় ১০০টি পুরস্কার এসেছে। এবারও ওই সম্মানের দৌড়ে আমরাই এগিয়ে থাকব।
পুজো আয়োজকরা জানান, মণ্ডপে শিবের মন্দির দিয়ে প্রবেশপথ থাকবে। সেখান থেকে দর্শনার্থীরা বিষ্ণু মন্দিরে পৌঁছবেন। সেই মন্দিরের প্রবেশপথে বিশাল আকৃতির ঘণ্টা ও সোনালী তালগাছ দেখা যাবে। বিষ্ণু মন্দির পেরিয়ে দর্শনার্থীরা ‘মায়ের বাড়ি’তে দেবীদর্শন করতে পারবেন। প্রতিমা তৈরি করছেন মহুলার মৃৎশিল্পী বাঁকা রায় দাস।
গতবছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি এই পুজোর উদ্বোধন করেছেন। পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক বাপি দেবনাথ বলেন, এবার মুখ্যমন্ত্রী কোন কোন পুজো ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন, সেই তালিকা আমাদের হাতে আসেনি। তবে আমরা আশাবাদী, এবারও মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই পুজোর উদ্বোধন হবে।
বাঁশের কাঠামোর উপর কাপড় ও প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। মণ্ডপে এলইডি ও স্পটলাইটের আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের অভিভূত করবে। পাড়ারই প্রতিভাবান শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
এলাকার দুই কোরিওগ্রাফার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য মৃণ্ময় অধিকারী বলেন, জেলা প্রশাসন, বহরমপুর থানা, হরিদাসমাটি পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় আমাদের পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে কোনও অসুবিধা হয় না।