Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হস্টেলে হস্টেলে নানা থিমে সরস্বতী বন্দনা, প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রঙিন

শীতের দুপুরে গাছের পাতা ভেদ করে পিচ রাস্তায় ঝরে পড়ছে সূর্যের আলো। পাতা ঝরার দিন এখনও আসেনি। তবুও পিচ রাস্তায় এদিক সেদিকে পড়ে রয়েছে শুকনো পাতা।

হস্টেলে হস্টেলে নানা থিমে সরস্বতী বন্দনা, প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রঙিন
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শীতের দুপুরে গাছের পাতা ভেদ করে পিচ রাস্তায় ঝরে পড়ছে সূর্যের আলো। পাতা ঝরার দিন এখনও আসেনি। তবুও পিচ রাস্তায় এদিক সেদিকে পড়ে রয়েছে শুকনো পাতা। তার উপর দিয়ে মনের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাইক ছুটিয়ে যাচ্ছে ছাত্ররা। অনেকে আবার প্রেমিকার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে। চারিদিকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ছড়াছড়ি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ চত্বর এদিন যেন হয়ে উঠেছিল বৃন্দাবন। প্রেমেবাধা দেওয়ার কেউ নেই। অন্য সময় প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে বেরলে পরিচিত কেউ সামনে চলে আসার ভয় থাকে। এদিন সেসব কিছুই চোখে পড়েনি। মনের মানুষের সঙ্গে হাত ধরে ঘোরার অঘোষিত ছাড়পত্র রয়েছে এদিন। তবে, শুধু প্রেম নয়, হস্টেলগুলির পুজো মণ্ডপের সামনে চলল জমিয়ে আড্ডা। প্রত্যেক বছরই ছাত্রছাত্রীদের হস্টেলগুলি থিমের নিরিখে একে অপরকে টেক্কা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কোথাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের স্মৃতি আবার কোথাও উঠে এসেছে মহাভারতের প্রেক্ষাপট।

Advertisement

নিবেদিতা ছাত্রী নিবাসের মণ্ডপ বিভিন্ন ধরনের বই দিয়ে তৈরি হয়েছে। পড়ুয়ারাই নিজের মনের মতো করে মণ্ডপ সাজিয়েছে। নেতাজি হস্টেলে দেখা যাচ্ছে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকশিল্প। মীরাবাই হস্টেলের মণ্ডপে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কার্টুন। অন্যান্য পুজো মণ্ডপগুলিও নজর কেড়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সপ্তম দাস বলেন, সরস্বতী পুজো মানে আমাদের কাছে এক অন্য অনুভূতি। পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসব।  প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কেমন মণ্ডপ হবে বা কীভাবে তত্ত্ব নিয়ে যাওয়া হবে, সেসব কিছুই আলোচনা করে ঠিক হয়। আর এক ছাত্র বলেন, পুজোর আগের দিন থেকে রাত জাগা শুরু হয়েছে। এখনও দু’দিন গভীর রাত পর্যন্ত জমিয়ে হুল্লোড় চলবে। দুপুরে অঞ্জলি দেওয়ার পর প্রিয়জনের হাত ধরে বেরিয়ে পড়েছি। এদিন তো আর কোনও বাধা নিষেধ নেই।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করেছিলেন বাইরের যুবক-যুবতীরাও। যাঁরা এখানকার প্রাক্তনী, তাঁদেরও অনেকেই এসেছিলেন এখানে। জমজমাট হয়ে উঠছিল প্রতিটি হস্টেল। গোলাপবাগের সর্বত্রই ছিল ভালোবাসার ছবি। রংবেরংয়ের পাঞ্জাবি আর বাসন্তি শাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর রঙিন হয়ে উঠেছিল।

শহরের অন্যান্য প্রান্তেও ধুমধাম করে পুজো হয়েছে। উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল খণ্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর সহ সর্বত্র। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ক্লাবে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এসব কিছুর মাঝে এদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছিল অন্যন্য। এখানে আনন্দর রেশ থাকবে আরও কয়েক’টা দিন। আজ, ঐতিহ্য মেনে চলে আসা তত্ত্ব বিনিময়ের দৃশ্যও নজর কাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ