সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর নিমদহ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে সরস্বতী পুজো করেননি শিক্ষিকারা। শুক্রবার ক্ষোভে বন্ধ স্কুল গেটেই পুজো করলেন অভিভাবকরা। সেখানেই অঞ্জলি দেয় খুদে পড়ুয়ারা। শিক্ষিকারা পুজো হচ্ছে শুনে স্কুলে এলে তাঁদের ঘিরে ব্যপক বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। পূর্বস্থলী থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পূর্বস্থলী-২ ব্লকের নিমদহ পঞ্চায়েতের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি উত্তর চক্রের অধীনে। স্কুলটিতে শিশু শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ৭৯ জন পড়ুয়া আর সেখানে দু’ জন শিক্ষিকা আছেন। প্রত্যেক বছর স্কুলে ধুমধাম করে বাগদেবীর আরাধনা হয়। অভিযোগ, এবার সেখানে পুজো হয়নি। স্কুলে যে পুজো হবে না, সেটাও পড়ুয়াদের আগাম জানানো হয়নি। এদিন সকালে খুদে পড়ুয়ারা সেজেগুজে স্কুলে যায় অঞ্জলি দিতে। গিয়ে দেখে স্কুল তালা বন্ধ। এরপরেই অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। এরপরেই অভিভাবকরা প্রতিমা এনে বন্ধ স্কুল গেটেই পুজো শুরু করেন। পড়ুয়ারা অঞ্জলি দেয়।
অভিভাবকদের দাবি, স্কুলের ছোট পড়ুয়ারা সকাল থেকে উপোস করে অঞ্জলি দেওয়ার জন্য স্কুলে এসেছিল। তাদের হতাশ হতে হল। শিক্ষিকারা পুজো করেননি। পঞ্চায়েত সদস্য বিপ্লব দাস, অভিভাবক টুম্পা বৈদ্য বলেন, আমরা শিক্ষিকাদের ফোন করেছিলাম। আমাদের বলা হয়েছে তাঁরা অসুস্থ তাই পুজো করেননি। এমনকী আমাদের বলা হয়েছিল, যা পারেন করে নিন। তাই আমরা স্কুল গেটেই পুজো করছি।
বেলার দিকে পুজো চলাকালীন প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জলি চট্টোপাধ্যায় স্কুলে আসেন। তাঁর সঙ্গে পুলিশও আসে। প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের তালা খুলে অভিভাবকদের অনুরোধ করেন পুজোটা স্কুলে করার জন্য। কিন্তু অভিভাবকরা রাজি হননি। তাঁরা শিক্ষিকাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা আরও বলেন, ওই স্কুল চত্বরেই আরও দুটো অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার রয়েছে। সেখানে প্রতিবারের মতো এবারেও পুজো হয়েছে। কিন্তু এই স্কুলে সরস্বতী পুজো হল না। না হওয়ার জন্য কোনো কারণও জানানো হয়নি। স্কুলের পরিচালন সমিতির এক প্রতিনিধি বলেন, আমরা স্কুলে পুজো করার জন্য শিক্ষিকাকে আগে থেকে বলেও ছিলাম। তাও কেন পুজো হল না বুঝতে পারছি না।
এদিকে নিমদহ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জনা চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা আমার ভুলই হয়েছে। আসলে অসুস্থ ছিলাম। তাই আগে থেকে পুজোর আয়োজন করতে পারিনি।