Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির ডাক

বকেয়া বেতন, পুজোয় বোনাস সহ বিভিন্ন দাবিতে ফের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাইকর্মীরা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন।

বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির ডাক
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বকেয়া বেতন, পুজোয় বোনাস সহ বিভিন্ন দাবিতে ফের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাইকর্মীরা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান নব্যেন্দু মাহালিকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভাজুড়ে তাঁরা পোস্টারও সাঁটিয়েছেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে অন্তত তিনবার বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করতে চলেছেন সাফাই বিভাগের কর্মীরা। সাফাই কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হলে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে নাগরিকদের। অবশ্য ধর্মঘট আটকাতে চেষ্টা করছেন চেয়ারম্যান। 

Advertisement

নব্যেন্দুবাবু বলেন, গত জুলাই মাসের বেতন বকেয়া আছে। আগস্ট মাস শেষ হতে চলল। সামনেই পুজো। সাফাইকর্মীরা একসঙ্গে দু’মাসের বেতনের দাবি জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে  পুজোর বোনাস চেয়েছেন। এতদিন পুজোয় ১৬০০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হতো। এবার তা বাড়ানোর পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। সাফাই কর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। যাতে তাঁরা ধর্মঘটে না নামেন। সাফাই কর্মীরা জানিয়েছেন, আলোচনায় চিড়ে ভিজবে না। একসঙ্গে দু’মাসের বেতন ও বোনাস দিলে তবেই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন।
পুরসভা সূত্রে খবর, পুরুলিয়া পুরসভায় সাফাই বিভাগে প্রায় ৯৭২ জন কর্মী রয়েছেন। অধিকাংশেরই ন্যূনতম বেতন দৈনিক ১২০টাকা! মাসে ৩৬০০ টাকায় তাঁদের সংসার চালাতে হয়। অথচ, তাঁরাই প্রতিদিন শহরবাসীর ঘুম ভাঙার আগে জঞ্জাল সাফাই করেন। খালি পায়ে ড্রেনের নেমে সেখান থেকে ময়লা তুলে নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল রাখেন। তাঁদের প্রতি এত বৈষম্য কেন? প্রতি মাসে বেতনের দাবি কী অনৈতিক?  
এদিন চেয়ারম্যানকে চিঠি দিতে আসা সাফাই কর্মীদের পক্ষে সুধাংশু ঘোষাল, সরজিৎ স্যামুয়েল বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি জমানায় এত কম টাকা বেতনে কাজ করা কী সম্ভব? তাও মাসের শেষে পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছি। যদিও আমাদের কথা কানে তোলার প্রয়োজনই মনে করছেন না চেয়ারম্যান।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯৭২ জন সাফাই কর্মীর বেতন দিতে পুরসভার প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। বিপুল পরিমাণ এই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা পুরসভার। পুরসভার নিজস্ব তহবিলের অবস্থাও শোচনীয়। চেয়ারম্যানের দাবি, ধর্মঘটের ডাক দিলে কীভাবে পুরসভা চলবে? পুরসভার বিরোধী দলনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, বেতন জোগাড়ের দায়িত্ব পুরসভার। এই সামান্য বেতনও যদি চেয়ারম্যান দিতে না পারেন, তাহলে তিনি পদত্যাগ করুন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ