সংবাদদাতা, বহরমপুর: সকালে প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বামীর ঘর ছাড়েন স্ত্রী। স্বামীর কাছে রেখে যান দুই সন্তানকে। স্ত্রীর ‘বিরহ’ সহ্য করতে না পেরে বিকেলে মালগাড়ির নীচে মাথা দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ কাশিমবাজার স্টেশনে যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সাক্ষী থাকলেন বহু মানুষ। বহরমপুর পুরসভায় অস্থায়ী সাফাইকর্মী মৃত যুবকের নাম রানা হাজরা(৩০)। বাড়ি বহরমপুর থানার কান্তনগর। জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িটি চলতে শুরু করলে তার নীচে মাথা দেন রানা হাজরা। আত্মহত্যা বলেই মেনে নিয়েছেন মৃতের পরিবার।
১২ বছর আগে সন্ধ্যা হাজরার সঙ্গে বিয়ে হয় রানা হাজরার। দম্পতির ১১ বছর ও ৯ বছরের দুই সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত বলে বেশ কিছুদিন থেকেই সন্দেহ করতেন রানা। এই নিয়ে সংসারে প্রায়ই অশান্তি হতো। মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ সন্ধ্যাদেবী কাপড় সেলাই করতে যাচ্ছি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। দুপুর পর্যন্ত না ফেরায় সন্দেহ হয়। বারবার ফোন করেও কোনও উত্তর মেলেনা। বিকেল ৪টে নাগাদ রানা জানতে পারেন স্ত্রী প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে। দুই ছেলেকে দাদার বাড়িতে রেখে বেরিয়ে যান রানা। বাড়ি থেকে পাঁচশো মিটার দুরে কাশিমবাজার স্টেশনে গিয়ে মালগাড়ির তলায় মাথা দেন। দেহ দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যা ছটা নাগাদ পরিবারের মৃত্যুর খবর আসে। মৃতের দাদা রাজেশ হাজরাও পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মী। তিনি বলেন, ভাই তার বউকে খুব ভালোবাসত। মাস দুয়েক থেকে সন্দেহের বশে অশান্তি শুরু হয়। সন্ধ্যা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় ভাই অভিমানে আত্মঘাতী হয়েছে।