সংবাদদাতা, মানকর: এক চিলতে ছোট্ট ঘর। সেই ঘরেই থাকেন গলসির শেখ সানিয়া। মানকর কলেজের ছাত্রী সানিয়া জাতীয় স্তরে হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সামনে অনেক পথ চলা বাকি। কিন্তু আর্থিক প্রতিকূলতা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর। যদিও গলসি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি হেমন্ত পাল বলেন, আমরা সব সময় ওর পাশে আছি। সানিয়া আমাদের গর্ব।
আর্থিক প্রতিকূলতা থাকলেও সানিয়া থেমে থাকেননি। রাজ্যের কোচবিহার, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জেলায় রাজ্যস্তরের হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজ্য হ্যান্ডবল দলের সদস্য। জাতীয় স্তরের খেলায় রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। সানিয়ার বাবা শেখ কামারুজ্জামান একজন ছোট কৃষক। তিনি বলেন, ওর খেলার জন্য প্রয়োজনীয় খরচটুকুও অনেক সময়ে আমি দিতে পারি না। তাও খেলার প্রতি ওর ভালোবাসা কমেনি। আমাদের আশা ও একদিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সানিয়া জানান, পরিবারের তরফে খেলার জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় খরচ মেলে না। শরীর ঠিক রাখতে নিয়মিত জিমে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। খেলার জন্য কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হলেও সেগুলো কেনা সম্ভব হয় না। প্রতিকূলতা থাকলেও বর্ধমানে কোচিং নিতে যাচ্ছেন তিনি।
গলসিতে বিনামূল্যে সানিয়াকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেন শ্যামলকুমার গোস্বামী। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে সানিয়া তাঁর কাছে অনুশীলন শুরু করেছিলেন। জেলা পর্যায়ে শটপুট ও ডিসকাস থ্রো-তে সাফল্য অর্জন করলেও হ্যান্ডবলের পরামর্শ দিই।
তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সানিয়া জেলা ও রাজ্য পর্যায়ে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে। ২০২৩ সালে স্কুল ন্যাশনালে এবং ২০২৫ সালে জুনিয়র ন্যাশনালে অংশ নিয়েছে। সানিয়ার এই সাফল্যে আমি গর্বিত। গলসির বাসিন্দা সুশান্ত চৌধুরী বলেন, সানিয়াকে দেখে এলাকার ছেলেমেয়েরা অনুপ্রাণিত হোক। এখন মাঠের বদলে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে যুব সমাজ। প্রতিভা থাকলেও মোবাইলের নেশায় নিজেদের হারিয়ে ফেলছে। সানিয়ার সাফল্য কামনা করে মানকর কলেজের অধ্যক্ষ সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে খেলুক সানিয়া। আমরা সব সময় ওর সঙ্গে রয়েছি। নিজস্ব চিত্র