Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেশখালির ‘জাল নোট’ ছাপা হয় শিয়ালদহে!

সন্দেশখালিতে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় পুলিসের স্ক্যানারে শিয়ালদহের একটি ছাপাখানা। পুলিস জেনেছে, নকল নোট এই ছাপাখানা থেকেই কিনত ধৃতরা।

সন্দেশখালির ‘জাল নোট’ ছাপা হয় শিয়ালদহে!
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালিতে জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় পুলিসের স্ক্যানারে শিয়ালদহের একটি ছাপাখানা। পুলিস জেনেছে, নকল নোট এই ছাপাখানা থেকেই কিনত ধৃতরা। এই কাজটা করত ধৃত দেবব্রত চক্রবর্তী। বিভিন্ন ভুয়ো ফর্ম ছাপানো এবং নকল নথিপত্র তৈরি হতো এই ছাপাখানা থেকেই বলেই পুলিস সূত্রে খবর। চলতি সপ্তাহেই সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা কর্তৃপক্ষকে জেরা করবেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি চক্রে ধৃত সিরাজউদ্দিন মোল্লার কাছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিস। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে জাল নোট চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে চাইছে সন্দেশখালি থানা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১৯ জুলাই সন্দেশখালির ধামাখালি ফেরিঘাটের কাছের একটি গেস্ট হাউস থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ও নকল নোট উদ্ধার করে পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় দেবব্রত চক্রবর্তী এবং সিরাজউদ্দিন মোল্লা নামে দুই অভিযুক্তকে। তারা দু’জনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। ঘটনার দু’দিনের মাথায় পুলিস অন‍্যতম অভিযুক্ত তিস্তা সেনকে পাকড়াও করে রামপুরহাট থেকে। তারপর নাগপুর থেকে চক্রের মাস্টারমাইন্ড অভিষেক তিওয়ারিকেও গ্রেপ্তার করে। সোমবার অভিষেককে বসিরহাট আদালতে তোলা হলে, ৮ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি কয়েকবছর ধরে সক্রিয়। এর আগে অভিষেক একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হয়। জেলমুক্তির পর নতুন করে সক্রিয় হয়। ধৃত দেবব্রত, তিস্তা ও সিরাজউদ্দিনকে জেরা করে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে পুলিসের কাছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, সুপরিকল্পিতভাবে এই গ্যাং কাজ করত। সিরাজউদ্দিন বিভিন্ন মানুষকে ফোন করে প্রতারণা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের জাল কাগজপত্র তৈরি করত। ইতিমধ্যেই তার বাড়ি থেকে এই ধরনের বিভিন্ন কাগজ ও ঋণগ্রহীতাদের পরিচয়পত্র পেয়েছে পুলিস। উদ্ধার হয়েছে ভোটার, আধার কার্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিচয়পত্র। এমনকী বিভিন্ন নামে ব্যাঙ্কের নোট ও ফর্মও পেয়েছে পুলিস। এদিকে নকল বা জাল নোট তৈরি করা থেকে ফর্ম ছাপানো পুরো কাজটাই করত দেবব্রত চক্রবর্তী। শিয়ালদহ একটি ছাপাখানা থেকে জাল বা নকল নোট ছাপানো হতো বলে সূত্রের খবর। চক্রের ‘বস’ ছিল তিস্তা ও অভিষেক। তাদের ভূমিকা কী? পুলিস বলছে, বিভিন্ন মানুষকে ফোন করে দেবব্রত-সিরাজউদ্দিনরা ধরিয়ে দিত বসদের। চক্রের দুই বসের কথায় অনেক মানুষ ঋণের জন্য প্রসেসিং ফি দিতেন। তাতেই কেল্লাফতে প্রতারকদের। এই গ্যাংয়ের কীর্তি শুনে তাজ্জব হয়ে যাচ্ছে পুলিস। এ নিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, গোটা চক্রকে জেরা করা হচ্ছে। একটি ছাপাখানার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কর্তৃপক্ষকে জেরা করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ