নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতায় বহু প্রাচীন একটি মন্দির হল নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে ভূতনাথ শিবমন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাশ্মশানে মৃতদেহ পোড়ানোর ছাই দিয়ে এই মন্দিরে প্রতিদিন শিবপুজো হয়ে থাকে। আড়াইশো বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে এই রীতি। শ্মশানে প্রথম আসা মৃতদেহ থেকে তুলে রাখা হয় এই ছাই। কলকাতা ছাড়িয়ে বহু দূর‑দূরান্ত থেকে আসা মানুষজনের আজও বিশ্বাস, এই প্রাচীন শিবমন্দিরে পুজো দিলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়ে থাকে। তাই যত দিন যাচ্ছে, এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসজুড়ে এই মন্দিরে দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
ওই মন্দির চত্বরে গিয়ে দেখা গেল , সেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে বিশাল এলাকা বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। ভক্তরা লাইন দিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিচ্ছেন। মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশও। গোটা শ্রাবণ মাসজুড়ে চলবে এই ব্যবস্থা।
মন্দিরটি দক্ষিণ ভারতীয় রীতিতে তৈরি হলেও এর দীর্ঘ বারান্দা উত্তর ভারতীয় স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে। মন্দির সূত্রের খবর, এই মন্দিরের সঠিক প্রতিষ্ঠা কবে, তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। তবে ওই এলাকার কিছু প্রবীণ মানুষের বক্তব্য, তাঁরা শুনেছেন সুদূর বারাণসী থেকে এসে এক জটাধারী সন্ন্যাসী একটি শিবলিঙ্গ এখানে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে তৈরি হয় স্থাপত্য ভাস্কর্যে মোড়া এই শিবমন্দির। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শিবমূর্তি ভূতনাথকে স্নান করিয়ে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। এরপর ভোগ নিবেদন করে চলে বিশেষ আরতি। মন্দিরের পিছনে রয়েছে গঙ্গা। সন্ধ্যায় আরতি শেষ হওয়ার পর শঙ্খধ্বনিতে সরগরম হয়ে ওঠে এই শিবমন্দির চত্বর।