নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালি চুরি ঠেকাতে রাজ্য সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। চালু হয়েছে অনলাইন ব্যবস্থা। কিন্তু তারপরও তৎপর রয়েছে অসাধু চক্রের পান্ডারা। বর্তমানে বালি খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য ই-চালান চালু রয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বালি সরবরাহের গাড়ির চালক ই-চালান নিচ্ছেন না বা কম অঙ্কের ই-চালান নিচ্ছেন। এই সমস্যায় ইতি টানতে বালি সরবরাহকারী গাড়িতে ‘ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস’ বা ‘জিপিএস ট্র্যাকার’ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
বর্তমানে বালি খাদানের নিলাম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নজরদারির দ্বায়িত্বে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন। তাদের অধীনে রেজিস্টার্ড বা নথিভুক্ত রয়েছে প্রায় এক লক্ষ লরি বা ট্রাক। শুধুমাত্র এই গাড়িগুলি ব্যবহার করেই বালি সরবরাহ করতে হয়। পরিবহণ দপ্তরের সহযোগিতায় এই গাড়িগুলিতেই ‘জিপিএস ট্র্যাকার’ লাগানো হবে। ফলে কোন গাড়ি কোন খাদান থেকে বালি তুলে কত দূর যাচ্ছে, তার উপর সরাসরি রাজ্যস্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালানো যাবে। কোনও গাড়ি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলে তৎক্ষণাৎ ধরা পড়বে। সেই তথ্য কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি পৌঁছে যাবে স্থানীয় পুলিস, রেভিনিউ ও মোটর ভেহিকল অফিসারদের কাছে। তাঁদের মোবাইলেও রয়েছে এনফোর্সমেন্ট অ্যাপ। তাতেই এই মেসেজ যাবে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বালি খাদান ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। চলতি আর্থিক বছরে এই রাজস্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মত প্রশাসনিক মহলের। এই ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে সামান্য যে চুরি এখন হচ্ছে, তাও আটকানো যাবে বলে আশাবাদী রাজ্য। এক আধিকারিক বলেন, ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে অনলাইন মাধ্যমে বালি খাদান নিলাম সুনিশ্চিত করা হয়। সরবরাহের ক্ষেত্রে ই-চালান চালু করা হয়েছে। ফলে কিছু মানুষ তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে এই প্রচেষ্টায় যাতে জল ঢেলে দিতে না পারে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রায় ১৮০০ হেক্টর বালি খাদান সফল ভাবে নিলাম করেছে কর্পোরেশন। আগামী দু’-তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০০ হেক্টরের বেশি পরিমাপের বালি খাদান নিলামের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।