Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটের ব্রাহ্মণী নদীতে ট্রাক্টর নামিয়ে দেদার বালি চুরি, নেপথ্যে এলাকার প্রভাবশালীরা

ব্রাহ্মণী নদীতে কমেছে জল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে বালি পাচারচক্র।

রামপুরহাটের ব্রাহ্মণী নদীতে ট্রাক্টর নামিয়ে দেদার বালি চুরি, নেপথ্যে এলাকার প্রভাবশালীরা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ব্রাহ্মণী নদীতে কমেছে জল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে বালি পাচারচক্র। রামপুরহাটের ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া নারায়ণপুর, খড়িডাঙা, শালবুনি, লালডাঙা লাগোয়া এলাকার ব্রাহ্মণী নদীতে ট্রাক্টর নামিয়ে অবাধে লুট চলছে প্রাকৃতিক সম্পদ। অথচ, এই এলাকার কোনও ঘাট থেকে বালি তোলার অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে নদীতে ট্র্যাক্টর নামিয়ে দেদার খনন চলছে। তার পরে সেই ট্রাক্টরেই বালি বোঝাই করে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, এই পাচারের নেপথ্যে রয়েছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় অবৈধ বালি বোঝাই যানবাহন দেখলেই আটকের পাশাপাশি চালককে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দিন দুয়েক আগে খোদ রামপুরহাট মহকুমাশাসক অভিযানে নেমে তিনটি বালি বোঝাই যানবাহন আটক করে।  

Advertisement

গতবছর বীরভূমে বালি পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তারপর ব্যাপক অভিযানে নামে পুলিশ। সেই সময় লালডাঙা এলাকায় অভিযানে এসে বালি মাফিয়াদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। তাদের লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে মাফিয়ারা। ভেঙে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ির কাচ। ইটের আঘাতে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন। কিন্তু তারপরও বালির বেআইনি কারবার যে চলছে, প্রশাসনের ধরপাকড় থেকেই স্পষ্ট, বলে মনে করছেন অনেকে। 
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট ১ ব্লক এলাকায় কোনও বৈধ বালির ঘাট নেই। কিন্তু তারপরও এই ব্লকের ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকা থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের কাজ চলছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নদী তীরবর্তী ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই ট্রাক্টর কিনেছেন। নদীতে শ্রমিকদের নামিয়ে সেই ট্রাক্টরে বালি বোঝাই করে পাচার করছেন। বর্তমানে পাথর শিল্পাঞ্চলগুলি যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন শ্রমিকরা। সেই শ্রমিকদের বালি তোলার কাজে লাগানো হচ্ছে। 
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদতে এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে স্থানীয় কিছু লোক। নারায়ণপুর গ্রামের নদীর ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে বালি তোলা হচ্ছে অবাধে। তাতে যেকোন সময় তিলপাড়া ব্যারেজের মতো এই ব্রিজেরও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব আদায়ও মার খাচ্ছে। নদী থেকে বালি তোলার ফলে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এতে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে। বর্ষাকালে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। 
যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই এলাকাগুলিতে বাংলা- ঝাড়খণ্ড মিলেমিশে এলাকার। যেখান থেকে বালি তোলা হচ্ছে সেই এলাকা ঝাড়খণ্ডের মধ্যে পড়ছে। 
এব্যাপারে রামপুরহাট ১ ব্লকের বিএলএল অ্যান্ড আরও নীলেশ্বর ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমানে এই ব্লকে কোনও বৈধ বালির ঘাট নেই। দু-একদিনের মধ্যে ‘ত্রি ম্যান’ কমিটির বৈঠক করে অভিযানে নামা হবে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ওই এলাকায় নাকা পয়েন্ট করলে তবেই বালি পাচার রোখা সম্ভবপর হবে। নতুবা অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের লুটতরাজ শুরু হবে। 
যদিও পুলিশ জানিয়েছে, পাচার রুখতে নিয়মিত অভিযান চালায়। কিন্তু রামপুরহাটের আটলা গ্রামে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভক্ত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ২০-২৫ হাজার মানুষ অংশ নেবে। সেই দিকেই নিযুক্ত পুলিশের একটা বড় অংশ। আবার কিছু পুলিশ পৌষ মেলার ডিউটিতে রয়েছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে বালি মাফিয়ারা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ