নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম ব্লকের কংসাবতী নদী তীরবর্তী গ্ৰাম ছানাপাড়া। গ্ৰামের নিকটবর্তী টিকরপাড়ায় একটি বালি খাদান রয়েছে। সেখান থেকে বালিবোঝাই গাড়িগুলি গ্রামের রাস্তা দিয়েই যাওয়া আসা করে। গ্ৰামবাসীরা যার ঘোরতর বিরোধী। রবিবার সকালে সেই গ্রামবাসীদেরই মারধরের অভিযোগ উঠেছে খাদান মালিক তথা বিজেপি নেতা ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে গ্ৰামজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মানিকপাড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের টিকরপাড়া বালি খাদানে আগামী মঙ্গলবার থেকে বালি তোলা শুরু হবে। খাদান মালিক মাসখানেক আগেই গ্ৰামের রাস্তা দিয়ে বালির গাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। গ্ৰামবাসীরাও বালির গাড়ি যেতে না দেওয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছিলেন। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, খাদান মালিক ও দলবলের পক্ষ থেকে তারপরেই চাপ দেওয়া শুরু হয়। দুর্গাপুজোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বালির গাড়ি চালানো নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, খাদানের মালিক তথা বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র মাহাত ও তাঁর দলবল এদিন সকলে ছানাপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দাকে মারধর করে। ঘটনার জেরে গ্ৰামজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। গ্ৰামের বাসিন্দারা দলবেঁধে মানিকপাড়া থানায় জড়ো হন। খাদান মালিকপক্ষের অবশ্য দাবি, প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁরা বালি খাদানের লিজ পেয়েছেন। গ্ৰামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর অনুমোদনও রয়েছে। গ্ৰামবাসীদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। গ্ৰামবাসীদের তরফে কংক্রিটের রাস্তা করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। রাস্তা করার দায় খাদান মালিকপক্ষের নেই। গ্ৰামের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ মাহাত বলেন, গ্ৰামের ভিতর দিয়ে বালির গাড়ি চলাচল করলে রাস্তা খারাপ হয়ে যাবে। বালির কিছু গাড়ি চালানো পর্যন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল। গ্ৰামবাসীরা এরপরেই প্রতিবাদ শুরু করেন। গ্ৰামের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী এদিন মানিকপাড়া বাজারে গিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র ও ওর লোকজন বাজারে তাদের মারধর করে। গ্ৰামের বাসিন্দারা তরপরেই বিচারের জন্য দলবেঁধে মানিকপাড়া থানায় যান। তবে মিটমাট করার জন্য আমাদের নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। অপর বাসিন্দা নিবারণ বেসরা বলেন, গ্ৰামের ভিতর দিয়ে বালির গাড়ি আমরা চলাচল করতে দেব না। মানিকপাড়া বাজারে আমাকে এদিন মারধরও করা হয়। আমাদের নানাভাবে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র মাহাত বলেন, বালি খাদানের বৈধ লিজ রয়েছে। গ্ৰামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। ঢালাইয়ের রাস্তা করে দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। মারধর করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টে গ্ৰামের লোকজন আমাকেই এদিন মারধর করেছে। তার ভিডিও পর্যন্ত রয়েছে। গ্ৰামের এক বাসিন্দা বলেন, গ্ৰামের লোকজনকে মারধর করার কারণে ওকে থানায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। ইচ্ছাকৃতভাবে সেটাকে মারধর বলে প্রচার করছে। বিজেপি করে বলে এলাকায় দাদাগিরি করে বেড়ায়। আমাদের পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখাচ্ছে। মানিকপাড়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্ৰামবাসীরা নিজেরাই বিষয়টি মিটমিট করে নেবেন বলে থানায় লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।