Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি পাচারে বাধা পেয়ে পুলিশকে মার পশ্চিম বর্ধমানের মাফিয়াদের

সোনামুখীর রণডিহা ঘাট থেকে বেআইনিভাবে বালি পাচারে বাধা পেয়ে পুলিশকে মারধর করে বালিবোঝাই ট্রাক্টর ছাড়িয়ে পালাল পশ্চিম বর্ধমানের মাফিয়ারা।

বালি পাচারে বাধা পেয়ে পুলিশকে মার পশ্চিম বর্ধমানের মাফিয়াদের
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর রণডিহা ঘাট থেকে বেআইনিভাবে বালি পাচারে বাধা পেয়ে পুলিশকে মারধর করে বালিবোঝাই ট্রাক্টর ছাড়িয়ে পালাল পশ্চিম বর্ধমানের মাফিয়ারা। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তিন পুলিশকর্মী জখম হন। তাঁদের সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। ওই ঘটনায় সোনামুখী থানার পুলিশ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সিংহভাগ পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানার বাসিন্দা। যদিও পুলিশ বুদবুদ থানার সহায়তায় ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ট্রাক্টরটিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাচারে বাধা পেয়ে ৩০থেকে ৩৫জন দুষ্কৃতী পুলিশকর্মীদের উপর চড়াও হয়। তারা আটক করা ট্রাক্টর জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ট্রাক্টরটিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজ চলছে। ঘটনায় ১৩জনের নামে এবং আরও ২৫জন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখীর রণডিহা ঘাটে দামোদর থেকে বালি পাচারের খবর পেয়ে শনিবার উত্তরবেশিয়া ক্যাম্প থেকে তিন পুলিশকর্মী যান। তাঁরা গিয়ে দেখেন প্রায় সাত-আটটি ট্রাক্টরে করে বেআইনিভাবে বালি পাচার করা হচ্ছে। পুলিশ তাড়া করলে চালকরা বাকি ট্রাক্টরগুলিকে নিয়ে চলে যায়। তবে দুষ্কৃতীরা একটি ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশকর্মীরা ওই ট্রাক্টর আটক করে যখন সিজার লিস্ট তৈরি করছিলেন, সেই সময় ৩০থেকে ৩৫জনের একটি দল পুনরায় ফিরে আসে। তারা আটক হওয়া ট্রাক্টরটিকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দেয়। তখন তারা পুলিশের সঙ্গে বচসাজুড়ে দেয়। তারা পুলিশকর্মীদের উপর চড়াও হয়।  তাঁদের মারধর করা হয়। মাত্র তিনজন পুলিশকর্মীর পক্ষে ‌এতজনের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েন। তখন দুষ্কৃতীরা একপ্রকার জোর করেই ট্রাক্টরটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানা এলাকার দিকে চম্পট দেয়। ঘটনায় উত্তর বেশিয়া ক্যাম্পের ওই তিন পুলিশ কর্মী জখম হন। তাঁদের সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। যদিও তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। 
এদিকে, সোনামুখী থানা থেকে গোটা বিষয়টি বুদবুদ থানায় জানানো হয়। বুদবুদ থানার সহযোগিতায় ওইদিন রাতেই ছাড়িয়ে নিয়ে পালানো ট্রাক্টরটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা সকলেই পলাতক থানায় তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তাদের খোঁজ চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ছ’জনের বাড়ি বুদবুদ থানার চকতেঁতুল গ্রামে। পাঁচজনের বাড়ি একই থানার সাঁকুরি গ্রামে। দু’জনের বাড়ি ওই থানারই শালডাঙা গ্রামে। এছাড়াও আরও ২৫জন অভিযুক্তের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি। 
প্রসঙ্গত, দামোদর নদের একদিকে সোনামুখী থানা এলাকা, অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ থানা এলাকা। সিংহভাগ বালি খাদান রয়েছে সোনমুখী থানা এলাকায়। তাই ওই এলাকায় বেআইনি বালি পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দামোদর থেকে বালি চুরি করে দুষ্কৃতীরা পশ্চিম বর্ধমানের দিকে চলে যায়। সোনামুখী থানা থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার দূরে গিয়ে পাচার আটকানো সমস্যা হওয়ায় কয়েকবছর আগে নদ তীরবর্তী উত্তবেশিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্প খোলা হয়। নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় পাচারকারীদের আক্রোশ পুলিশের উপর গিয়ে পড়ে। পাচারে বাধা দিলে বেপরোয়া দুষ্কৃতীরা পুলিশ কর্মীদের উপর বারবার চড়াও হচ্ছে। পাচার রুখতে গিয়ে এর আগেও উত্তরবেশিয়া ক্যাম্পে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাই ওই ক্যাম্পে আরও সশস্ত্র পুলিশকর্মী মোতায়েন করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ