Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নয়াগ্ৰামে সুবর্ণরেখার উপর উধাও বালির চর, জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ গ্রামবাসীদের

সুবর্ণরেখা নদীর বুকে জেগে উঠেছিল বালির চর। ক্রমশ সবুজ হয়ে ওঠা বালির চরে পাখিদের আনাগোনা বাড়ছিল

নয়াগ্ৰামে সুবর্ণরেখার উপর উধাও বালির চর, জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ গ্রামবাসীদের
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সুবর্ণরেখা নদীর বুকে জেগে উঠেছিল বালির চর। ক্রমশ সবুজ হয়ে ওঠা বালির চরে পাখিদের আনাগোনা বাড়ছিল। ঝইপুর-নতুনপালের সেই আস্ত বালির চর রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে। বালি মাফিয়াদের এহেন কার্যকলাপে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বালির চর চুরির ঘটনায় নয়াগ্ৰামের জামিরাপাল কপাটঘাটি গ্ৰামের বাসিন্দারা জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর তদন্তে নেমেছে।
নয়াগ্ৰামের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সৃজিত সাহাপোদ্দার বলেন, দপ্তরের তরফে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। আমাদের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement


ঝাড়গ্রামের সুবর্ণরেখা নদীতে লাগামহীন বালি পাচার চলছে। এক খাদানের ক্যারিং অর্ডার দিয়ে অন্য খাদানে বালি তোলা হচ্ছে। নকল সিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বালি পাচারের গাড়িতে নকল নম্বর প্লেট লাগানো হচ্ছে। প্রধান বালি সিন্ডিকেটের তলায় একাধিক ছোট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বালি সিন্ডিকেটের কারবার ফুলেফেঁপে উঠেছে। সুবর্ণরেখা তীরবর্তী জামিরাপাল, জিনিয়াপাল, পাহাপালের মতো একাধিক এলাকায় বালি পাচারের বেআইনি কারবার রমরমিয়ে চলছে। গোপীবল্লভপুর-১, ২ ও নয়াগ্ৰাম ব্লকে ১০টি বালি খাদান রয়েছে। তিনটি জেলাশাসকের অনুমোদিত। বাকি সাতটি রাজ্য সরকারের অধীন। নয়াগ্ৰাম ব্লকের জামিরাপাল গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাজ্য সরকারের অধীনস্ত হিজলবনী ও ঝইপুর পাঁচকন্যা দু’টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। স্থানীয় গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, খাদানের সীমারেখার বাইরে লাগামহীন বালি তোলা হচ্ছে। যার জেরে ঝইপুর-নতুনপাল বালির চর উধাও হয়ে গিয়েছে। চরের সব বালি তুলে নেওয়ায় এলাকাবাসী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জামিরাপালের বাসিন্দা সন্দীপ মহাপাত্র বলেন, খাদানের সীমানার বাইরে গিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বালি তোলা চলছিল। যা নিয়ে ক্ষোভ ছিল। কিন্তু বালির আস্ত একটা চর উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা মানতে পারছি না। খুদমারাইয়ের বাসিন্দা সন্দীপ জানা বলেন, জেলাশাসক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জামিরাপালের এক বাসিন্দা বলেন, প্রভাবশালীদের সঙ্গে খাদান সংস্থার কিছুদিন আগে বখরা নিয়ে চরম ঝামেলা হয়েছিল। খাদান সংস্থার ডাম্পার ও বালি পাচারের গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল। দু’পক্ষের আলোচনায় ঝামেলা মেটে। ঝইপুর-নতুনপাল বালির চর উধাও হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করায় দু’পক্ষ বিপাকে পড়েছে। স্থানীয় গ্ৰামবাসীরা এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


জামিরাপাল গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব দাস মহাপাত্র বলেন, সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকায় এখন লাগামহীন বালি পাচার চলছে। ঝইপুর-নতুনপাল বালির চরের সব বালি বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সব স্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা বারবার এলাকা পরিদর্শন করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া শামুকের গতিতে চলছে। যা নিয়ে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ