নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: যিনিই বিএলও তিনিই তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ-২। এমনই অভিযোগ ওঠেছে পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভার(কোলাঘাট) খন্যাডিহি পঞ্চায়েতের ৪০নম্বর বুথে। ওই বুথের বিএলও হলেন শীতল মণ্ডল। আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ-২ লিস্টে তাঁরই নাম রয়েছে। ৪নভেম্বর অনলাইনে বিএলএ-২ লিস্টে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়। তারপরই কোলাঘাটের বিডিওর কাছ থেকে রিপোর্ট চাইল জেলা প্রশাসন। সোমবার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এনিয়ে কোলাঘাটের বিডিওর কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। তবে, বিএলএ লিস্টে নাম থাকলেও তাঁকে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি।
জানা গিয়েছে, শীতলবাবু সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। তাঁকে বিএলএ-২ করার জন্য দলের পক্ষ থেকে একটি ফর্মে সই করানো হয়। তার আগে থেকেই তিনি বিএলও নিয়োগপত্র নিয়েছেন। বিএলও এবং বিএলএ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে শীতলবাবুর দাবি। তিনি বলেন, শাসকদলের লোকজন আমাকে একটি ফর্মে সই করতে বলেছিল। আমি ভেবেছিলাম, ওটা বিএলও হিসেবে কোনও ফর্ম। কিন্তু, সেটা বিএলএ ফর্ম ছিল বুঝতে পারিনি। তাই বিএলও নিয়োগপত্র পাওয়ার পর বিএলএ লিস্টেও আমার নাম চলে আসে। ৪নভেম্বর বিষয়টি সামনে আসার পরই প্রশাসনের কাছে বিএলএ লিস্ট থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার আর্জি জানাই। ওই বুথে তৃণমূলের বিএলএ-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দিলীপ বাগ।
বিজেপির জেলা সম্পাদক তাপস পাত্র বলেন, বিএলওদের অনেকেই শাসকদল ঘনিষ্ঠ। এনিয়ে আমরা পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভা থেকে একগুচ্ছ অভিযোগ বিডিও অফিসে জমা করি। কিন্তু, ব্লক প্রশাসন সেসব ভ্রুক্ষেপ করেনি। খন্যাডিহি পঞ্চায়েতে ৪০নম্বর বুথে একেবারে অভিনব ঘটনা ঘটেছে। এখানকার বিএলও শীতল মণ্ডল শাসকদলের বিএলএ-২। শীতলবাবু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তিনি কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন?