সংবাদদাতা, ডোমকল: সম্পর্কে ওঁরা দুই বোন। একজন হাসিবা। অন্যজন হাফিজা। দু’জনের বয়সের ফারাক বছর দু’য়েকের। স্বাভাবিকভাবে আর পাঁচটা বোনের মতো তাঁদের মধ্যেও মিল একাধিক। কিন্তু এই মিলের ভিড়ে এমন একটা মিল রয়েছে, যা গত প্রায় দেড় দশক ধরে তাঁদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সেটা আধার কার্ডের নম্বর। দু’জনের ক্ষেত্রেই এক! দু’জনের আধারকার্ডে নাম, জন্মতারিখ সমস্ত কিছু আলাদা হলেও ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর এক। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার দায়িত্বে থাকা আধারের ওই ত্রুটির কারণেই তাঁদের জীবনে নেমে এসেছে আঁধার। পড়ছেন নানান সমস্যায়। বঞ্চিত হচ্ছেন একাধিক সরকারি পরিষেবা থেকেও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটির মাধ্যমে প্রদান করা হয় আধার কার্ড। প্রতিটি আধার কার্ডে থাকে ১২ সংখ্যার ইউনিক একটি নম্বর। ইউআইডিএআই এর তৈরি করা আধার নম্বর জেনারেট হয় এক বিশেষ অ্যালগরিদম অনুযায়ী। যেটা নিশ্চিত করে যে একই নম্বর দ্বিতীয়বার কাউকে দেওয়া হবে না। কিন্তু, এই নিয়ম উল্টো হয়ে গিয়েছে ইসলামপুরের গোয়াস কালিকাপুরের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলামের দুই মেয়ে হাফিজা খাতুন ও হাসিবা খাতুনের কাছে। দু’জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। হাফিজুলের অভিযোগ, প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি মেয়েদের আধারের এই সমস্যা দূর করার জন্য প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। সুরাহা মেলেনি। তাঁর দাবি, আধার কার্ড পাওয়ার বছর কয়েক পরে মেয়েদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক করার সময় তিনি জানতে পারেন, তাঁর দুই মেয়ের আধার কার্ডের নম্বর এক। আর এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর ভোগান্তির দৌড়। তিনি বলেন, মেয়েদের আধার ঠিক করার জন্য গত দেড় দশকে অন্তত লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ফেলেছি। কোথাও সমাধান না হওয়ায় কয়েক হাজার টাকা খরচ করে রাঁচির আধার কার্ডের হেড অফিসেও গিয়েছি। তাতেও হয়নি সমস্যার সমাধান। সংশোধিত হয়ে আসা সেই আধার কার্ডের নম্বরও দু’জনের একই। আর তাতেই ভীষণ সমস্যায় পড়েছে মেয়েরা।’ আর মেয়েদের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে কাজকর্ম লাটে তুলে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে বাবা হাফিজুলকে। হাফিজুল জানান, এই সমস্যার কারণে মেয়েরা সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছোট মেয়ের রেশন পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ছোট মেয়ে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো সরকারি পরিষেবা পায়নি। এমনকি মেয়ের সংসারে পর্যন্ত অশান্তি শুরু হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় লাখ খানেক টাকা খরচ করে ফেলেছি। দুই মেয়ের আধার কার্ড ঠিক করতে গিয়ে আমার জীবনেও আঁধার নেমে এসেছে।
বড় মেয়ে হাফিজা খাতুন বলেন, আমাদের দুই বোনের আধার কার্ডের একই নম্বরের কারণে ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। সরকারি পরিষেবা নিতে গিয়েও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। স্কুল জীবনে আমি সরকারি স্কলারশিপও পাইনি। রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেন বলেন, বিজেপির সরকার বাংলা ও বাঙালিদের ওপর এইসব চক্রান্ত করে করছে। এর আগেও বিজেপির সরকার ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে বাঙালিদের ওপরে চক্রান্ত করেছিল। এভাবে চলতে পারে না। কেন্দ্রের সরকারকে বলব খুব দ্রুত যাতে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা বলেন , আধার কার্ডের বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্র সরকার দেখে। বিষয়টি আমি আপনার কাছেই শুনলাম। ওই ব্যক্তিকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমার নির্দিষ্ট অথরিটিকে লিখিতভাবে জানাব।