নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিকে স্কুলে নিযুক্ত কম্পিউটার ইনস্ট্রাক্টর (আইসিটি) অন্যদিকে, ২০২২ প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী। সোমবার জোড়া বিক্ষোভে উত্তাল হল সল্টলেকের করুণাময়ী মোড় থেকে বিকাশ ভবন চত্বর। দু’পক্ষই সকাল থেকে জমায়েত শুরু করে। স্কুলের আইসিটি শিক্ষকদের দাবি, এজেন্সির অধীনে পুনর্নিয়োগ নয়, তাঁদের সরকারের অধীনে এনে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। অন্যদিকে, টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দাবি, গত সরকারের আমলে যে ইন্টারভিউ শুরু হয়েছিল, তা এই সরকার শেষ করে ১৩ হাজার ৪২১টি পদে দ্রুত নিয়োগ করুক।
সম্প্রতি এই আইসিটি শিক্ষকদের বরখাস্তের চিঠি দিয়েছিল নিয়োগকারী দু’টি এজেন্সি। কারণ, সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে। ২০০০ স্কুলে নিযুক্ত সমসংখ্যক শিক্ষকের চাকরি চলে যেতে বসেছিল। এ নিয়ে হইচই হওয়ায় সরকার ওয়েবেলকে জানিয়ে দেয়, অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে চুক্তি হলেও এই শিক্ষকদেরই যেন নিয়োগ করা হয়। সেই মতো সোমবার সকাল ন’টায় পুনর্নিয়োগের চিঠি তাঁরা পেয়েও গিয়েছেন। প্রসঙ্গত, এই শিক্ষকরা প্রকল্পের ষষ্ঠ দফায় নিযুক্ত। এছড়াও সপ্তম দফায় নিযুক্ত ১৭১৯ জন শিক্ষকও রয়েছেন। তাঁদের চাকরির মেয়াদও শেষের মুখে। তাঁরাও এদিন বিক্ষোভ শামিল হন। তাঁদের বক্তব্য, পুনর্নিয়োগ পাওয়া বড়ো কথা নয়। পঞ্চম দফা পর্যন্ত নিযুক্ত শিক্ষকদের যেভাবে সরকার সরাসরি সাম্মানিক দিচ্ছে, তাতে তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হোক। রবিবার রাতেই কলকাতার উদ্দেশে পাড়ি দেন দক্ষিণ দিনাজপুরের লস্করহাট জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু সমস্ত শ্রেণির পড়ুয়াদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণই দিই না, শিক্ষকের অভাবে অন্যান্য ক্লাসও নিয়ে থাকি। এছাড়াও সরকারের সমস্ত প্রকল্পের কাজ আমাদের মাধ্যমেই স্কুল করিয়ে থাকে। এদিকে, আমরা মাসে সাত-আট হাজার টাকা পাই। আর সরকারের অধীনে আসা আইসিটি শিক্ষকরা পান ২৫-৩০ হাজার টাকা। প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বোনাসের সুবিধেও রয়েছে। তাই আমরা এজেন্সি প্রথার অবসান চাই।’ এই দাবিতে রাতভর বিকাশ ভবন অবরোধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়ে থেকে যান তাঁরা।
টেট উত্তীর্ণরা প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে স্মারকলিপি দেন। পরে বিকাশ ভবনে স্কুলশিক্ষা কমিশনার নিখিল নির্মলের কাছেও স্মারকলিপি দেন তাঁরা। পথ আটকানো হলে রাস্তায় বসে পড়েন তাঁরা। পরে করুণাময়ীর কাছে সৌরভ গাঙ্গুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমির সামনে তাঁরা অবস্থান করেন। সন্ধ্যার পরে বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে বসেন তাঁরা। তবে, পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের তুলে দেয়। অন্যদিকে, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের সংশোধিত প্রার্থী তালিকা এদিন প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। আগে যাঁরা ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাঁদের অবশ্য ফের তা দিতে হবে না। নতুন যাঁদের নাম ঢুকেছে, তাঁদেরই ইন্টারভিউ দিতে হবে। সূত্রের খবর, আগের তালিকা থেকে ২৭৮০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। নতুন করে ঢুকেছেন ২৭৮৪ জন।