Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেচদপ্তরের জমি ঘুরপথে বিক্রি, কিনলেন ভগবানপুরের তৃণমূল প্রধান

সেচদপ্তরের লিজ নেওয়া জমি হাত ঘুরে কিনে নিলেন তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। তিনি শুধু একাই নন। ক্রেতার তালিকায় রয়েছেন পঞ্চায়েতের ঠিকাদার, চুল ব্যবসায়ী এবং মাছের ভেড়ি ব্যবসায়ীরাও।

সেচদপ্তরের জমি ঘুরপথে বিক্রি, কিনলেন ভগবানপুরের তৃণমূল প্রধান
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সেচদপ্তরের লিজ নেওয়া জমি হাত ঘুরে কিনে নিলেন তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। তিনি শুধু একাই নন। ক্রেতার তালিকায় রয়েছেন পঞ্চায়েতের ঠিকাদার, চুল ব্যবসায়ী এবং মাছের ভেড়ি ব্যবসায়ীরাও। এমন অভূতপূর্ব কাণ্ডটি ঘটেছে ভগবানপুর-১ ব্লকের গুড়গ্রাম পঞ্চায়েতের নোনা বিরামপুর মৌজায়। পত্রপাঠ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) বৈভব চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট ব্লক ভূমি অফিসারকে তদন্ত করে অবিলম্বে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘সেচদপ্তরের জমি কীভাবে বেচাকেনা হল, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখা হবে। ভগবানপুর-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসারকে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে।’ সরকারি সূত্র বলছে, ২০১১ সালের পর সেচদপ্তরের জমি লিজ দেওয়া বন্ধ। লিজের মেয়াদও রিনিউ করার প্রক্রিয়া বন্ধ। অথচ, ভূমিদপ্তরের এক শ্রেণির অসাধু অফিসারদের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ লিজ জমির রেকর্ড বের করে হাতবদলের ঘটনা ঘটছে।

Advertisement

গুড়গ্রামে ঠিক সেটা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। গত মার্চ মাসে গুড়গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান রিন্টুকুমার রানা, পঞ্চায়েতের ঠিকাদার মহাদেব বাগ, চুল ব্যবসায়ী মানিক দাস ও নারায়ণ মাইতি, ভেড়ি ব্যবসায়ী বাপন দাস প্রমুখ নোনাবিরামপুর মৌজায় ১৬ ডেসিবল জমি কেনেন। নীলকণ্ঠপুর থেকে তেরপেখ্যা যাওয়ার পিচ রাস্তার ধারে ওই জ঩মির চরিত্র নয়ানজুলি। ৪০ বছর আগে সেচৃদপ্তর স্থানীয় এক্তারপুর গ্রামের কয়েকজনকে জমিটি লিজে দিয়েছিল। তাঁদের উত্তরসূরিরা সেই জমি নিজেদের নামে রেকর্ড বের করে বিক্রি করে দিয়েছেন। কীভাবে সেচদপ্তরের জমি এভাবে হাতবদল হয়ে প্রভাবশালীদের হাতে চলে গেল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। 
তদন্ত চেয়ে ভগবানপুর-১ ব্লকের নোনাবিরামপুর মৌজার বিবেকানন্দ মাইতি, চিত্তরঞ্জন মাইতি, তাপস দিণ্ডা, গৌরহরি মান্না সহ অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেছেন। অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) এবং সেচদপ্তরের কাঁথির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। অভিযোগকারীদের ঘরবাড়ি ওই নয়ানজুলির পরেই অবস্থিত। সেচদপ্তরের নয়ানজুলি হাতবদল ঠেকাতে তাঁরা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছেন। এর আগে ওই এলাকায় এরকম ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে সেচদপ্তরের জমির উপর গড়ে ওঠা বিল্ডিং ভাঙা হয়েছে।
অভিযোগকারী বিবেকানন্দবাবু, চিত্তরঞ্জনবাবু বলেন, ‘সেচদপ্তরের লিজ দেওয়া জমি রেকর্ড করার পর হাতবদল হচ্ছে। রেজিস্ট্রি অফিসে সেই জমি অন্যের নামে দলিলও হয়ে গিয়েছে। আমাদের আপত্তিতে ওই বিতর্কিত জমির রেকর্ড আটকে রয়েছে। আমরা চাই, এই অবৈধ কাজের তদন্ত হোক। কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের সামনে আনা হোক। সেইসঙ্গে পঞ্চায়েতের প্রধান সহ সকল ক্রেতার জমি ভূমিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে ফেরানো হোক।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ