সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: শীতকাল পড়তেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে খেজুর গুড়ের নামে ভেজাল গুড় বিক্রি বাড়ছে। আর এই ভেজাল গুড় কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। ভেজালের জন্যই নিজস্ব স্বাদ হারাচ্ছে জেলায় তৈরি নলেন গুড়।
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: শীতকাল পড়তেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে খেজুর গুড়ের নামে ভেজাল গুড় বিক্রি বাড়ছে। আর এই ভেজাল গুড় কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। ভেজালের জন্যই নিজস্ব স্বাদ হারাচ্ছে জেলায় তৈরি নলেন গুড়।
জেলার মধ্যে হরিরামপুরের মহেন্দ্র, ইটালঘাটি ও বংশীহারির করখা, থিনগুর, শেরপুর ও গঙ্গারামপুরের শিববাড়ি, সর্বমঙ্গলায় খেজুরের রস থেকে পাটালি গুড় তৈরি হয়। এছাড়াও কুশমণ্ডির দাসবাড়ি এলাকাতেও খেজুরের রস থেকে গুড় প্রস্তুত হয়ে থাকে। জেলার হাট-বাজার থেকে শুরু করে মুদির দোকানে এখন দেদার নলেন গুড় বিক্রি হচ্ছে। দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। গুড়ের উৎপাদন অপেক্ষা চাহিদা অনেক। অভিযোগ, সেই কারণে গুড়ে মিশছে ভেজাল। খেজুর গুড় তৈরির সময় কেজি কেজি চিনি মেশানো হচ্ছে। বংশীহারির শেরপুর এলাকার গুড় প্রস্তুতকারক নিতাই মণ্ডল বলেন, খেজুরের গাছ অনেক কম। রস সংগ্রহ করতে যে পরিমাণ খাটনি হয়, সেই পরিমাণে আয় হয় না। একটি হাঁড়ির রস জাল দিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম শুদ্ধ গুড় হয়। তাতে একটু চিনি মেশাতেই হয়। গুড়ে পাঁক নিয়ে আসতে সকলেই দিয়ে থাকেন।
ক্রেতাদের বক্তব্য, নলেন গুড়ে তেমন সুগন্ধও থাকছে না। কারিগর নিতাই বলেন, এই মরশুমে গুড় তৈরি সবে শুরু। এখন গুড়ে তেমন গন্ধ হবে না। কুয়াশা বাড়লে গুড়ের গন্ধ হবে। তখন গুড়ের মিষ্টতাও বাড়ে।
গঙ্গারামপুর শহরের বাসিন্দা অনিমেষ সরকার বলেন, চিত্তরঞ্জন সবজি মার্কেটে নলেন গুড় কিনেছিলাম। খাওয়ার পর মনে হয়েছে ভেজাল গুড়। এদিকে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলা থেকেও নলেন গুড় জেলায় আসছে। কিন্তু কোনও গুড়েই আসল স্বাদ মিলছে না বলে অভিযোগ। অনিমেষের কথায়, কেনার সময় গুড়ে গন্ধ থাকছে। বাড়ি আনার পর পায়েস বা পিঠে তৈরির পর নলেন গুড়ের গন্ধ থাকছে না। অনেকে আসল নলেন গুড়ের কথা বলে ভেজাল গুড় বিক্রি করছে। সেই পাটালির স্বাদ গন্ধ থাকছে না বলেই অভিযোগ ভোজন রসিকদের।