Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাঁইথিয়ায় তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনা: মূল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এবার পুনর্নির্মাণ করবে পুলিস

সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পীযূষ ঘোষকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। তাঁর মাথার পিছনের দিকে গুলি চালানো হয়েছিল।

সাঁইথিয়ায় তৃণমূল নেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনা: মূল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এবার পুনর্নির্মাণ করবে পুলিস
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পীযূষ ঘোষকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। তাঁর মাথার পিছনের দিকে গুলি চালানো হয়েছিল। একদম শার্প শ্যুটারের মতোই দক্ষ হাতে গুলি চালানো হয়েছিল। এভাবে খুনের পরই রাহুল আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল বলে অনুমান পুলিসের। তার কাছে কি আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র মজুত ছিল? কী কারণে সে পিস্তল রেখেছিল, তৃণমূল নেতাকে খুনের জন্যই সে আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল কি না সেসব একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিস জানিয়েছে, তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় তদন্তে জাল গোটাতে এবার মূল অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হবে। ধৃত তৃণমূল নেতার প্রেমিকা সারদামণি মজুমদারকেও ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। ঠিক কীভাবে খুন করা হয়েছিল তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখতে চাইছেন। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে।  

Advertisement

গত শনিবার গভীর রাতে তৃণমূলের শ্রীনিধিপুর অঞ্চল সভাপতি তথা সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০মিটার দূরে তিনমাথার মোড় থেকে তাঁর রক্ষাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিস মূল অভিযুক্ত রাহুল ও পীযূষের প্রেমিকা সারদামণিকে গ্রেপ্তার করেছে। ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই খুন বলে দাবি পুলিসের। যদিও খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। পুলিস ধৃত দু’জনকে জেরা করছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যে ধৃতদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের কললিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত রাহুল এলাকায় প্রভাবশালী ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক সময় দাদাগিরির অভিযোগও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এলাকায় প্রভাব ধরে রাখতে আগে থেকেই রাহুল আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করে রেখেছিল। তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনায়ও ওই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল সে। তবে কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে পেয়েছিল, সেটি সরবরাহে কাদের মদত রয়েছে তা অবশ্য তদন্তকারী পুলিসকর্তাদের ভাবিয়ে তুলছে। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সারদামণির সঙ্গেই আগে সম্পর্ক ছিল পীযূষের। পরে রাহুলের সঙ্গে সারদামণির সম্পর্ক তৈরি হয়। এনিয়ে রাহুলের সঙ্গে পীযূষের একাধিকবার ঝামেলাও হয়েছিল। এমনকী, পীযূষকে সরিয়ে দেবে বলে সারদামণিকে জানিয়েছিল রাহুল। পুলিস রাহুলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সারদামণিকেও জেরা করছে। সেইসঙ্গে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। বুধবার আদালত থেকে বের করার সময় খুনের কারণ সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম প্রশ্ন করলেও ধৃত রাহুল কোনও উত্তর দেয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ