Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামো আদৌ কাজে লাগাতে পারছে না সাই, ক্ষুব্ধ মমতা

প্রচুর টাকা খরচ করে জলপাইগুড়িতে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন গড়ে দিয়েছে রাজ্য

বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামো আদৌ কাজে লাগাতে পারছে না সাই, ক্ষুব্ধ মমতা
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: প্রচুর টাকা খরচ করে জলপাইগুড়িতে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন গড়ে দিয়েছে রাজ্য। খেলাধুলোর প্রসারে সেই মাঠ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়াকে (সাই)। কিন্তু তারা ওই বিশাল পরিকাঠামো ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারছে না। এনিয়ে সোমবার শিলিগুড়িতে বিজনেস সামিটের মঞ্চ থেকে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জলপাইগুড়িতে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন গড়েছি আমরা। ওটা সাই’কে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা করতে পারল না। এরপরই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতবড় একটা জিনিস পড়ে থাকবে, এটা হয় না। এবার ওটা অন্য কাউকে দিতে হবে, যারা সত্যিই কিছু করতে আগ্রহী। 

Advertisement

বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যের পরই আশায় বুক বেঁধেছে জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। দ্রুত এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে মনে করছে তারা। জলপাইগুড়ি ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি গৌতম দাস বলেন, বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনে অনেক জায়গা পড়ে আছে। সাই ব্যবহার করছে না। ওই জায়গাকে কাজে লাগিয়ে জেলার খেলাধুলোর উন্নয়নে অনেক কিছু করা যেতে পারে। ক্লাবের কাছ থেকে মাঠ চেয়েচিন্তে আমাদের কোচিং ক্যাম্প চালাতে হচ্ছে। অথচ রাজ্যের তৈরি করে দেওয়া বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনে জায়গা ফেলে রেখেছে সাই। এনিয়ে আমরা সম্প্রতি জেলাশাসককেও চিঠি দিই। 
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ভোলা মণ্ডল বলেন, আমরা সাই’র বিরোধী নই। তবে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব কোনও মাঠ নেই। আইএফএ, সিএবি থেকে যে সংখ্যক কোচিং ক্যাম্পের প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে, উপযুক্ত জায়গার অভাবে তার সবগুলি করতে পারছি না। অথচ বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনে মাঠ পড়ে রয়েছে। সেই মাঠ সাই আমাদের ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। 
রাজ্যের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনটি সাই’কে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল। মউ অনুযায়ী সাই’র দায়িত্ব, ওই মাঠে অ্যাথলেটিক্স, তিরন্দাজি, ফুটবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু রাজ্যের ক্রীড়াদপ্তরের কাছে ইতিমধ্যেই তথ্য এসেছে, খেলাধুলোর প্রসারে ওই জায়গাকে আদৌ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। গোরু চড়ছে মাঠে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি বিধানসভার অধিবেশন পর্বেও তুলে ধরেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। 
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও সাই’র জলপাইগুড়ি সেন্টারের ইনচার্জ ওয়াসিম আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালে যখন বিশ্ববাংলা ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের সেন্টার তৈরি হয়, সেসময় শুধুমাত্র ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্স চলত সাই’র জলপাইগুড়ি সেন্টারে। এখন টেবল টেনিস, তিরন্দাজি, জিমন্যাস্টিকও চলে। ব্যাডমিন্টন ও সাঁতার শুরুর চেষ্টা চলছে। যদিও সাই’র জলপাইগুড়ি সেন্টারে এখন ১১৭ জন ছেলেমেয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো রয়েছে। বর্তমানে রয়েছে ৯৩ জন। এনিয়েও প্রশ্ন উঠছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ