নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া দক্ষিণের বিধানসভাগুলিতেই ম্যাপিং না হওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাঁদের শুনানিতে দেখাতে হবে প্রয়োজনীয় নথি। উল্টোদিকে নদীয়া উত্তরের বিধানসভাগুলিতে ম্যাপিং হওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। যার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে করিমপুর, চাপড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়ার মতো বিধানসভাগুলি। যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ম্যাপিং হয়ে গিয়েছে সিংহভাগ ভোটারের।
বুধবার বেলা পর্যন্ত নদীয়া জেলায় ৪৪ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষ ভোটারের ডিজিটাইজেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানেই নো-ম্যাপিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই পরিসংখ্যান মোটেই স্বস্তিদায়ক নয় গেরুয়া শিবিরের কাছে। কারণ শুনানিতে ডাক পড়লে ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকছে।
উল্লেখ্য, নদীয়া দক্ষিণের সিংহভাগ বিধানসভা বিজেপির দখলে রয়েছে। যার মধ্যে হরিণঘাটা, চাকদহ, কৃষ্ণগঞ্জ, কল্যাণীর মতো বিধানসভাগুলি রয়েছে। উদ্বাস্তু ও মতুয়া ভোট বরাবরই বিজেপির দিকে গিয়েছে। কিন্তু, এবার দেখা যাচ্ছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না পাওয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। জানা গিয়েছে, বুধবার বেলা পর্যন্ত নদীয়া দক্ষিণের রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় ২২ হাজার, কল্যাণীতে প্রায় ২০ হাজার, চাকদহে প্রায় ১৪ হাজার, কৃষ্ণগঞ্জে প্রায় ১৮ হাজার, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৫ হাজার ও শান্তিপুর বিধানসভায় ১২ হাজার ভোটারের এখনও পর্যন্ত ম্যাপিং হয়নি।
অন্যদিকে, নদীয়া উত্তরের বিধানসভাগুলিতে তৃণমূলের প্রভাব অপেক্ষাকৃত বেশি। কিন্তু, সেখানের ছবি একটু অন্যরকম। কারণ, করিমপুর বিধানসভায় তিন হাজার, নাকাশিপাড়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার, কালীগঞ্জ বিধানসভায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, চাপড়ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটারের ম্যাপিং করানো যায়নি। এই বিধানসভাগুলি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তেমনি আবার বিজেপি প্রভাবিত কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় ম্যাপিং না হওয়া ভোটারের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি।
এখনও পর্যন্ত বিএলও অ্যাপের তথ্যানুযায়ী কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় প্রায় ১২ হাজার এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। অর্থাৎ নদীয়া উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে আপাতত এক লক্ষ ৭০ হাজার ভোটারের ম্যাপিং না হওয়ায় তাঁদের নথিপত্র দেখাতে হবে। যদিও প্রশাসনের দাবি, ডিজিটাইজশনের কাজ একশো শতাংশ শেষ হলে এই নো ম্যাপিং হওয়া ভোটারের সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে শুনানিতে ডাক পড়া ভোটারদের জমির দলিল, স্কুল সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন নথি দেখাতে হবে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, এসআইআরের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করাই বিজেপির আসল উদ্দেশ্য। মানুষের পরিচয়কে রাজনীতির আগুনে সেঁকছে বিজেপি। ওরা জনগণ বিরোধী একটা দল। মানুষ ভোট বাক্সে এর জবাব দেবে। কোনও ভোটার যাতে বিজেপির এই নোংরা রাজনীতির শিকার না হন, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।
রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, সিএএর মাধ্যমে আমাদের দলের তরফ থেকে বহু মানুষের আবেদন করানো হয়েছে। কিন্তু, রাজ্য সরকার বিরোধিতা করেছিল। সমস্ত কাজটাই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অফিসাররা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে দ্বিচারিতা করছেন। উদ্বাস্তু মানুষরা বিজেপিকে ভোট দেয়। তারজন্য তাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।