নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তৃণমূলের দখলে রয়েছে পঞ্চায়েত। রাজ্যে সরকার বদলের পর বিজেপি নতুন করে সেই পঞ্চায়েত দখলও করেনি। হয়নি বোর্ড গঠন। কিন্তু, তার আগেই গেরুয়া রঙের পোচ পড়ে গেল পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। আরামবাগের মুথাডাঙায় মায়াপুর-১ পঞ্চায়েত অফিসের ভবন গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রবিবারও ভবনের বাইরের অংশে রঙের কাজ হতে দেখা যায়। রঙের পোচ দিয়েই কি পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রণের বার্তা, জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।
সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, রং বদলে ক্ষমতা দখলের বার্তা দেওয়া যায়। কিন্তু, মানুষকে পরিষেবা দেওয়া যায় না। বিগত দিনে মানুষ পঞ্চায়েতের পরিষেবা পায়নি। যারা গায়ের জোরে পঞ্চায়েত দখল করেছিল তারা এখন আর আসে না। বিজেপির সদস্যরাও আগে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতায় চলেছেন।
মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের রুমানা ইসলাম অবশ্য এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, সিপিএমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজ্যে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের দরজা খুলে গিয়েছে। গেরুয়া রং ত্যাগের প্রতীক। ওই পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভবনের রং নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন করে রং করা হচ্ছে। যাতে ভবনটি ভাল থাকে। এখানে দখলের কোনো ব্যাপার নেই। মানুষের জন্যই রঙের কাজ হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মায়াপুর-১ পঞ্চায়েতে ১৭টি আসন। চারজন বিজেপি সদস্য রয়েছেন। বাকিরা তৃণমূলের। পঞ্চায়েত সমিতির আসনেও সেখান থেকে একজন বিজেপির প্রতিনিধি রয়েছে। অঙ্কের নিরিখে ওই পঞ্চায়েতের বোর্ড দখলের ক্ষমতা বিজেপির নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই গেরুয়া শিবিরের। আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের সদস্যরাও এখনো বিজেপিতে যোগ দেননি। ফলে বোর্ড এখনো অধরাই। কিন্তু, তার আগে পঞ্চায়েতের ভবনের রং বদলে দেওয়া হচ্ছে। এক বিজেপি নেতা অবশ্য বলছেন, এলাকার উন্নয়নে বিজেপি কাজ করছে। ওই পঞ্চায়েতের তরফে ভাড়া দেওয়া অন্য ঘরগুলি থেকে দীর্ঘদিন ভাড়ার টাকা বকেয়া ছিল। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই টাকা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার মানুষের চাহিদা প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র