নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলাজুড়ে ভূগর্ভস্থ জল তলানিতে চলে যাওয়ায় ক্রমশ আর্সেনিকের বিপদ বাড়ছে। জেলার ৯৫ শতাংশ ব্লকই ক্রিটিক্যাল ও সেমি ক্রিটিক্যাল জোনে রয়েছে। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে জেলার মানুষকে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় ভূগর্ভস্থ জলের অপ্রতুলতার নিরিখে সেফ ব্লকের সংখ্যা বেড়েছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন কৃষ্ণনগর-২ ব্লক। এর আগে জেলার শুধুমাত্র রানাঘাট-১ এবং চাকদহ ব্লকেই ভূগর্ভস্থ জল নিরাপদ ছিল। তারসঙ্গে এবারে কৃষ্ণনগর ২ ব্লক যুক্ত হওয়ায় অর্থাৎ বর্তমানে তিনটি ব্লক ‘সেফ’ হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলাজুড়ে কমেছে ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যাও। বিগত দু’ বছর ধরে ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা কমছে। যাতে আশার আলো দেখছেন পরিবেশবিদরা। নদীয়া জেলায় ১৮টি ব্লক রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে ক্রিটিক্যাল ও সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা ১৫টি। কেন্দ্র সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় ভূগর্ভস্থ জলের অপ্রতুলতার নিরিখে ২০২২ সালে ক্রিটিকাল ব্লকের সংখ্যা ছিল ১০। সেগুলি হল, চাপড়া, করিমপুর-১, করিমপুর-২, কৃষ্ণগঞ্জ, নবদ্বীপ, নাকাশিপাড়া, রানাঘাট-২, শান্তিপুর, তেহট্ট-১, তেহট্ট-১। অন্যদিকে সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লক ছিল ৬টি। সেগুলো হল, হাঁসখালি, হরিণঘাটা, কালীগঞ্জ, কৃষ্ণনগর-১, কৃষ্ণনগর-২ এবং কল্যাণী। ২০২৩ সালে ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা কমে হয় ৮। নবদ্বীপ ও করিমপুর-১ ব্লক সেবার ক্রিটিক্যাল ব্লক থেকে সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লকের তালিকায় ঢোকে। যার ফলে সেবছর সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮। তখন রানাঘাট-১ এবং চাকদহ ব্লককে সেফ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে জেলার পরিস্থিতি আরও কিছুটা উন্নত হয়। সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯। ২০২৩ সালে ক্রিটিক্যাল ব্লকের তালিকায় থাকা তেহট্ট-১ এবং শান্তিপুর সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লকের তালিকায় ঢুকে পড়ে। সেমি ক্রিটিক্যাল ব্লক কৃষ্ণনগর-২, ‘সেফ’ ব্লক হিসেবে চিহ্নিত হয়। যার ফলে ক্রিটিক্যাল ব্লকের সংখ্যা হয় ৬। ২০২৫ সালে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। নদীয়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কৃষ্ণনগর-২ ব্লকটি সেফ ব্লক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি একটু উন্নত হয়েছে। মূলত বৃষ্টিপাত, জলের অপব্যবহার কমানো গেলেই ভুগর্ভস্থ জলের পরিস্থিতি উন্নত হবে। নদীয়া জেলার পরিবেশ কর্মী শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তী বলেন, আমরা সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করি। ভূগর্ভস্থ জল যতটা কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। এই প্রতিকূল সময়ে যদি কোনও ব্লকের পরিস্থিতি ভালো হয়, তাহলে তা আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, নদীয়া জেলায় ভূগর্ভস্থ জল মাটির নীচে জমার সুযোগ পাচ্ছে না। ২০২৪ সালে নদীয়ার মাটির নীচে জমা হওয়া জলের ৮৫.১৮ শতাংশ তুলে নেওয়া হয়েছে। যেখানে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জল নিষ্কাশনের হার ৪৫.৬৩ শতাংশ। সেচ, শিল্প ও গৃহস্থের কাজে সেই জল ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের প্রকাশিত রিপোর্টে এমনটাই জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নদীয়া জেলায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৯৯ হেক্টর মিটার জল মাটির নীচে গিয়েছে। কিন্তু জল উত্তোলন হয়েছে ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৭৮ হ্যাম। অর্থাৎ একবছরে নদীয়া জেলার ৮৫ শতাংশ জল উত্তোলন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার হ্যাম শুধুমাত্র সেচের কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে।



