Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুড়ি বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন তেহট্টের সাধনা পণ্ডিত

‘যিনি রান্না করেন তিনি চুলও বাঁধেন’— দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে এই প্রবাদকে সার্থক প্রতিপন্ন করেছেন তেহট্টের  গৃহবধূ সাধনা পণ্ডিত।

কুড়ি বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন তেহট্টের সাধনা পণ্ডিত
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: ‘যিনি রান্না করেন তিনি চুলও বাঁধেন’— দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে এই প্রবাদকে সার্থক প্রতিপন্ন করেছেন তেহট্টের  গৃহবধূ সাধনা পণ্ডিত।  

Advertisement

সংসারের কাজ সামলে প্রতিমা গড়েন তেহট্ট গ্রামের গৃহবধূ সাধনা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বরাত বেশি পেয়েছেন। কয়েক বছর আগেও তিনি ১৮টি দুর্গা প্রতিমা গড়ার বরাত পেতেন। এ বছর পঁচিশটি প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন। খরচ বাঁচাতে চৈত্র মাস থেকে প্রতিমা তৈরি শুরু করছেন। 
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তাঁর পরিবার কেউ কোনওদিন প্রতিমা গড়েননি। স্বামী  সোমনাথ পণ্ডিত প্রতিমা শিল্পী। তাঁদের এক ছেলে লেখাপড়া করছে। প্রতিবেশী সবুজ মণ্ডল, সুকমল বিশ্বাস বলেন, সাধনা বিয়ের আগে মূর্তি গড়া সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। স্বামীর কাজ দেখে তিনি নিজেই এখন একজন সুদক্ষ প্রতিমা শিল্পী। এখন তাঁর হাতে গড়া বিভিন্ন ধরনের প্রতিমা এলাকার বিভিন্ন মন্দিরের জায়গা করে নিয়েছে। শিল্পী সাধনা পণ্ডিত বলেন, আমার যখন মাত্র তেইশ বছর বয়স, তখন  বিয়ে হয়। বাবার বাড়ি তেহট্টের মণ্ডল পাড়ায়। বাবা ছোট্ট দোকান করে সংসার চালাতেন। সেই সময়ে সংসারের কাজ সামলে অবসরে স্বামীর মূর্তি গড়া দেখতাম ও তাঁর কাজে সাহায্য করতাম। সেই থেকেই কাজে হাতেখড়ি। এখন তিনি পুরোদমে দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী, কালী সমস্ত প্রতিমা তৈরিতে পারদর্শী। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো সহ খড় বাঁধা মাটির প্রলেপ দেওয়া, অবশেষে মূর্তির চক্ষুদান সমস্ত কাজই তিনি নিজে হাতে করেন। সারা বছরই কোনও না কোনও মূর্তি গড়তে ব্যস্ত থাকেন। এই করেই তাঁর সংসার চলে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে লাভের অঙ্ক তলানিতে ঠেকেছে। পরিবেশ দূষণের কথা ভেবে ভেষজ রঙে মূর্তি গড়ার কাজ করেন।  
স্বামী সোমনাথ পণ্ডিত বলেন, বাড়িতে মূর্তিগুলো ও নিজে হাতে তৈরি করে। অবসর সময়ে কখনও কখনও আমি নামমাত্র সহযোগিতা করি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ