


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেলের ব্যর্থতা নয়। একের পর এক ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে অন্তর্ঘাতেই। রেল সূত্রে এমনই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে তিরুবনন্তপুরম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাটনায় সাসারাম স্টেশনে একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার হাওড়ায় মিথিলা এক্সপ্রেসের ঘটনাতেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সবক’টি ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে রেল কর্তারা মনে করছেন, দৃষ্কৃতীরাই এসব ঘটাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নিজেদের ব্যর্থতা এবং অপদার্থতা ঢাকার জন্য কি অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব সামনে আনছে মোদি সরকার? এর আগে ট্রেন বেলাইনের ঘটনাতেও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ করেছিল রেল বোর্ড।
ইতিমধ্যেই সাধারণ রেল যাত্রীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে রেল জানিয়েছে, প্রত্যেককে আরও বেশি সতর্ক এবং সচেতন থাকতে হবে। এমন কোনো ঘটনা যাতে দুষ্কৃতীরা ঘটাতে না পারে, সেই ব্যাপারে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। নিজেদের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় ঠিক কী জানাচ্ছে রেল? সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, হাওড়ায় মিথিলা এক্সপ্রেসে একটি কোচের শৌচালয়ে পেট্রলে চোবানো কাপড়ের টুকরো পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই, অসৎ উদ্দেশ্যেই তা আনা হয়েছিল। এমনকি সাসারাম স্টেশনে যে খালি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কয়েকটি কোচে আগুন লাগে, সেখানেও বাইরে থেকে কিছু ছুঁড়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে প্রাথমিক তদন্তে। রাজধানী এক্সপ্রেসের কামরায় আগুন লাগার কারণ হিসাবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সেই শর্ট সার্কিট হওয়ার মতো পরিস্থিতিও বাইরে থেকে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি রাজস্থানের অমরপুরায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ‘লিনেন’ সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মতো অসৎ উদ্দেশ্যেই তা করা হয়েছিল। এবার অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেনেও তা করা হচ্ছে। রেলমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে আরও বেশি আরপিএফ মোতায়েন করা হবে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলিতে।