নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের নতুন সংস্করণ প্রকাশ করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। নতুন বইয়ে বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, বিনায়ক দামোদর সাভারকর এবং সুভাষচন্দ্র বসু নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক সংশোধিত বই থেকে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিতর্কিত অংশ, বিচারাধীন মামলার জট এবং আদালতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে জনস্বার্থ মামলা , ট্রাইব্যুনালের মতো নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। অন্য এক অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের বিরোধিতা ব্যাপকভাবে করেছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। পাশাপাশি দেশভাগ মেনে নেওয়াই একমাত্র পথ ছিল কি না, তা ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্কের বিষয়, বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির আগের সংস্করণে লেখা ছিল, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় গোটা উপমহাদেশ জর্জরিত হয়ে পড়ায় কংগ্রেস নেতৃত্ব কার্যত অসহায় হয়ে দেশভাগ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। সংশোধিত বইয়ে সেই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পূর্ণ স্বাধীনতার দাবির প্রসঙ্গে নতুন সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯২৫ সালেই বিনায়ক দামোদর সাভারকরও ‘স্বরাজ’-এর দাবি তুলেছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের সংস্করণে বলা হয়েছিল, তিনি সেনাবাহিনী গঠনের জন্য আডলফ হিটলারের সমর্থন চেয়েছিলেন। পুরানো বইয়ে হিটলারকে স্বৈরশাসক হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। সংশোধিত সংস্করণে সেই উল্লেখ বাদ দিয়ে শুধু বলা হয়েছে, নেতাজি ‘ব্রিটিশবিরোধী শক্তিগুলির সমর্থন চেয়েছিলেন’।



