সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতাল উন্নীত হতে চলেছে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। উপকৃত হবেন ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া প্রত্যন্ত এই এলাকার প্রায় পাঁচ লক্ষ সাধারণ মানুষ। আগামী কাল, মঙ্গলবার ইলামবাজারের পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে ভার্চুয়ালি শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের শেষপ্রান্তে মুরারই বিধানসভা। এলাকার অধিকাংশ মানুষ পাথর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। মুরারই সহ লাগোয়া ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে ৫০ বেডের মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু পরিষেবা ঠিক মতো মেলে না বলে অভিযোগ। ফলে প্রায় ৪০ কিমি দুরে রামপুরহাট মেডিক্যালের উপর ভরসায় থাকতে হয় এলাকার মানুষদের। বহু রোগী রামপুরহাটে আসার পথেই মারা যান। স্বভাবতই স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স। আই-ওটি থাকলেও সার্জেনের অভাবে বন্ধ। বিল্ডিং ও স্টাফ কোয়ার্টারগুলিরও ভগ্ন দশা। ২০১৩ সালে ইলামবাজারের জনসভা থেকে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল করার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার বিধায়ক মোশারফ হোসেন থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা সকলেই রাজ্যের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। গত নভেম্বরে বর্ধমানে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে বসেন রামপুরহাট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ব্লকস্তর আর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঝে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় আরও একটি স্টেট জেনারেল, মহকুমা বা জেলা হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দেন মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। তার আগে গত মে মাসে মুরারই হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল স্তরে উন্নীত করার আশ্বাস দেন ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস (স্বাস্থ্য ও ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার) সিদ্ধার্থ নিয়োগী। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে এই হাসপাতালকে একশো বেডের স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করতে ২৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য। বিএমওএইচ অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবার ইলামবাজার থেকে ভার্চুয়াল শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। স্টেট জেনারেল হলে সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি সহ সমস্ত বিভাগের স্পেশালিষ্ট চিকিৎসকরা থাকবেন। অপারেশন থিয়েটার-সহ সমস্ত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে। বহু মানুষ উপকৃত হবেন।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গর্ভবতী ছাড়া বাকি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মুরারই হাসপাতালে গেলে সঙ্গে সঙ্গে রামপুরহাট মেডিক্যালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছিল। স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত হলে এখানেই চিকিৎসা পরিষেবা পাব। আর গাড়ি ভাড়া করে দূরবর্তী রামপুরহাট মেডিক্যালে যেতে হবে না। এলাকার বিধায়ক মোশারফ হোসেন এরজন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল চালু হওয়ার পর মুরারই সহ আশেপাশের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ করবী বড়াল বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনা সঠিক বলে মনে করছি। মুরারই থেকে রামপুরহাট মেডিক্যালের অনেকটা দুরত্ব। অনেক কষ্ট করেই সেখানকার রোগীদের মেডিক্যালে নিয়ে আসেন আত্মীয়স্বজনরা। মুরারই স্টেট জেনারেল হওয়ায় রামপুরহাট মেডিক্যালে চাপ অনেকটাই কমে আসবে। এই গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেলে উন্নীতকরণে শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। -নিজস্ব চিত্র