Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপদসীমা অতিক্রম করে ফুঁসছে রূপনারায়ণ, উদ্বিগ্ন খানাকুলবাসী

বিপদ সীমা অতিক্রম করে ফুঁসছে রূপনারায়ণ নদ। ইতিমধ্যেই খানাকুল-২ ব্লকের মারোখানা পঞ্চায়েতের নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বাজার সহ মূল রাস্তা জলে ডুবে গিয়েছে।

বিপদসীমা অতিক্রম করে ফুঁসছে রূপনারায়ণ, উদ্বিগ্ন খানাকুলবাসী
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বিপদ সীমা অতিক্রম করে ফুঁসছে রূপনারায়ণ নদ। ইতিমধ্যেই খানাকুল-২ ব্লকের মারোখানা পঞ্চায়েতের নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বাজার সহ মূল রাস্তা জলে ডুবে গিয়েছে। জল প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তার সঙ্গে দোসর হয়েছে বৃষ্টি। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বাসিন্দারা।

Advertisement

সোমবার দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে খানাকুল সহ আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়। একইসঙ্গে ডিভিসির তরফে এদিন বিকেল ৩টে পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৮০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। তাতেই ফুঁসছে নদ নদীগুলি। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রূপনারায়ণ নদের বিপদ সীমা ৬.৮৫মিটার। সকাল পর্যন্ত সেখানে জলস্তর ছিল ৬.৮৭ মিটার। মুণ্ডেশ্বরীতে এদিনের জলস্তর ছিল ১০.৬৫ মিটার। দামোদরে ১১.৩০ মিটার। এই দু’টি নদীও বিপদ ছুঁইছুই অবস্থায় রয়েছে। এদিন সকাল পর্যন্ত আরামবাগে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এরই মধ্যে ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের খুঁটেপাড়ায় দ্বারকেশ্বরে নির্মীয়মাণ বাঁধে ফাটল দেখা যায়। যদিও দ্রুত সেচদপ্তর সেখানে মেরামতির কাজ করে। 
সেচদপ্তরের চাঁপাডাঙা ইরিগেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মণিশঙ্কর দত্ত বলেন, মুণ্ডেশ্বরী ও দামোদরের ছ’টি জায়গায় রিভার ব্যাঙ্ক প্রটেকশনের কাজ চলছিল। কিন্তু, জল বেড়ে যাওয়ায় সেই কাজ এখন আর করা যাচ্ছে না। তবে চারটি জায়গায় বাঁধের কাজ চলছে। রূপনারায়ণে জলের চাপ থাকায় মারোখানা এলাকায় কিছু জায়গা জলমগ্ন হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার থেকে রূপনারায়ণে জোয়ারের ফলে নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নতুন করে আরও জল ঢুকছে। বাসিন্দাদের দাবি, মারোখানা পঞ্চায়েতের মূল রাস্তার একাংশ জলের তলায় রয়েছে। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও বুক সমান হল রয়েছে। তারফলে বাসিন্দারা যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মারোখানা, জগৎপুর, ধান্যঘোরী, রাজহাটি-১  প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকার একাংশে জল জমেছে। তারফলে ধানের বীজতলা ও পাট চাষের জমি ডুবেছে। প্রশাসনের তরফে চাল ও ত্রিপল পাঠানো হচ্ছে। খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, কিছু জায়গায় জল রয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় টিম পাঠানো হয়েছে। 
মারোখানার বাসিন্দা তপন মণ্ডল বলেন, বউমা ও মেয়ে দু’জনেই প্রসূতি। তারা হাওড়ার বাগনানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। কীভাবে বাড়ি নিয়ে আসব বুঝতে পারছি না। বিঘে তিনেক জমিতে চাষ করি। ধান রোয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এবছর আর ধান হবে না। 
আরএক চাষি গণেশ মাইতি বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে ভাগে চাষ করি। মাঠে শসা ছিল। কয়েকদিন সময় পেলে তুলেও নিতাম। কিন্তু তার আগেই জলে ডুবে গেল। জলমগ্ন হয়েছে পটল খেতও। ধান রোয়া হয়ে গিয়েছিল। সেখানেও জল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ