সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে এক অধ্যাপক ও এক আধিকারিককে পদ থেকে সরানো নিয়ে চাপা গুঞ্জন বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গিয়েছে, এ কে দাশগুপ্ত সেন্টার ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট থেকে গত ১৪ আগস্ট অধ্যাপক অপূর্বকুমার চট্টোপাধ্যায়কে সরানো হয়। যিনি ওই সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত চেয়ার প্রফেসর পদে ছিলেন। তাঁর পরিবর্তে সেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন পল্লিশিক্ষা ভবনের এগ্রিকালচার-ইকোনমিক্স বিভাগের অধ্যাপক বিধানচন্দ্র রায়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান বিশ্বাসকেও একই দিনে সরানো হয়েছে। তার পরিবর্তে ওই পদে বসেন অধ্যাপক অমিতাভ পাল, যিনি জেনেটিকস্ অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক। এমনকী, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সমস্ত আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতাও অধ্যাপক পালের হাতে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই দু’টি পদে ভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকদের বসানোয় কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। বিশেষত, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজকর্ম দেখার জন্য কৃষি বিভাগের অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। প্রসঙ্গত, একটি প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে গত ১৪ আগস্ট বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে ‘লার্নিং ফ্রম অমর্ত্য সেন’ শীর্ষক একটি বক্তৃতা সভা আয়োজিত হয়। সেখানে মুখ্য বক্তা ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ। তবে অনুষ্ঠানটি বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে আয়োজন করার কথা ছিল। প্রাথমিকভাবে ওই প্রকাশনার সংস্থা ছাড়াও বিশ্বভারতীর অর্থনীতি বিভাগ ও এ কে দাশগুপ্ত সেন্টার ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এই দু’টি বিভাগেরও অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। এমতাবস্থায়, গীতাঞ্জলিতে অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বিস্ময় ও হতাশা ব্যক্ত করেন জঁ দ্রেজ। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, আমি কিছুটা হতাশ ও ব্যথিত যে অনুষ্ঠানস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সভাকক্ষ থেকে গীতাঞ্জলি হলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা বেশ ধাক্কা দেওয়ার মতো, কারণ তিনি (অমর্ত্য সেন) তো ওই গ্রন্থাগারেরই সন্তান। পাশাপাশি তিনি বলেন, এটা কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক যে আজ আমরা অধ্যাপক সেনকে নিয়ে বলার জায়গাতেই কথা বলতে পারছি না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র বলে কিছু নেই...। তাই আমাদের প্রতিরোধ করতেই হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পরই অধ্যাপক অপূর্বকুমার চট্টোপাধ্যায়কে সংশ্লিষ্ট সেন্টার থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অধ্যাপকদের একাংশের মধ্যে গুঞ্জন ও চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করে বারবার সরব হয়েছেন প্রবীণ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তার প্রেক্ষিতেই কি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, খুব স্বাভাবিক নিয়মেই আধিকারিক ও অধ্যাপককে সরানো হয়েছে। এর মধ্যে কোনও বিতর্ক নেই।



