নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আর কয়েক মাস পরেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে শুরু করা হয়েছে এসআইআর অর্থাৎ স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে এই এসআইআরকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একপ্রকার পায়ের তলার মাটি শক্ত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে দলগুলি। এলাকায় এলাকায় ক্যাম্প করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। ইনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করতে সাহায্য করছেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ঘুরপথে জনসংযোগ আরও সুদৃঢ় করতে মরিয়া ডান-বাম প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে আসরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেক্ষেত্রে অবশ্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সবার থেকে এগিয়ে থাকার চেষ্টায় মরিয়া।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর ইশ্যুতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূলের তরফে জেলাজুড়ে বুথ ভিত্তিক শিবির করা হবে। শিবিরের দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় নেতৃত্বদের কাঁধে। অন্যদিকে, বিজেপি সহ সিপিএম ও কংগ্রেস পৃথকভাবে বৈধ ভোটারদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। সামগ্রিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের দাবি, এসআইআরকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে ওয়ার্মআপ শুরু করে দিয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বদের সবধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাঁরাই আগামীতে সাধারণ মানুষের প্রতিটি সমস্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সেইসঙ্গে একজন ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়, সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো বলেন, দলের তরফে প্রতিটি ব্লকেই শিবির করা হবে। সেইসঙ্গে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা প্রতিটা মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন। একজন মানুষকেও যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই দিকটি সুনিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এসআই ইস্যুতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিজেপি নেতৃত্বরা প্রয়োজন অনুসারে শিবির করার কথা ভাবছেন। পুরুলিয়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শংকর মাহাতো বলেন, আমাদের তরফে সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে নেওয়া হয়েছে। কেউ কোনও কিছু বুঝতে না পারলে, তা বোঝানোর কাজ চলছে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বেশকিছু এলাকায় শিবির করা হতে পারে।
জেলা সিপিএমের সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, আমরা প্রকৃত ভোটারদের পাশে আছি। প্রয়োজন অনুসারে আমাদের তরফে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র করা হবে। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, একজন বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখব। সেক্ষেত্রে শুরুতেই বিধানসভা ভিত্তিক বিএলএ-২ দের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।