নয়াদিল্লি: পালটা শুল্ক আরোপ। রুশ তেল আমদানির ‘জরিমানা’ হিসাবে বর্ধিত ট্যারিফ। ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতিতে আগ বাড়িয়ে মধ্যস্থতার দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। একের পর এক ইস্যুতে বিগত প্রায় এক বছর চাপানউতোরের সাক্ষী ভারত-মার্কিন সম্পর্ক। এরইমধ্যে এখনও ঝুলে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি। সেই আবহেই শনিবার ভারত সফরে এলেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। নয়াদিল্লিতে এদিন তিনি বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণও জানালেন। রুবিও ও মোদির বৈঠকে এদিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষত প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বাণিজ্য চুক্তিতে আমেরিকার চাপের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন মোদি। এই পরিস্থিতিতেই ভারত সফরে এলেন মার্কিন বিদেশ সচিব।
এদিন প্রথমে সস্ত্রীক কলকাতায় পৌঁছান রুবিও। বিমানবন্দর থেকে আসেন মাদার টেরিজা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তরে। সেখান থেকে ‘নির্মলা শিশুভবন’। এরপর দিল্লি রওনা দেন তিনি। রাজধানীতে মোদির সঙ্গে বৈঠক হয় তাঁর। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুবিও। আর মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও নিরাপত্তার ইস্যুতে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের কল্যাণে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে ভারত ও আমেরিকা।’ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, নাগরিক সংযোগ সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আমেরিকার অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন রুবিও। তিনি বলেছেন, ভারত হল আমেরিকার অতি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। শীঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে চলেছি আমরা। পাশাপাশি, ভারত যে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাত নিরসনের পক্ষে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তা ফের জানিয়ে দিয়েছেন।
আজ, রবিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন রুবিও। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। দিল্লি থেকে সোমবার আগ্রা ও জয়পুর ঘুরে মঙ্গলবার সকালে ফের দিল্লিতে ফিরবেন। সেখানেই কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক অংশ নেবেন রুবিও। কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দিনের এই সফরে সামগ্রিকভাবে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য রুবিওর।