সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: রাত হলেই বন্ধ হয়ে যায় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে সুলভ শৌচালয়। যার ফলে সমস্যায় পড়তে হয় রোগীর আত্মীয়দের, বিশেষ করে মহিলাদের। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সুলভ শৌচালয়গুলি রাতে বন্ধ হয়ে গেলেও ইমার্জেন্সিতে থাকা শৌচালয় সকলকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।
Advertisement
বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল কয়েক বছর আগেই সুপার স্পেশালিটি তকমা লাভ করেছে। তার ফলে এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। শুধুমাত্র বোলপুর মহকুমা নয়, পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকেও প্রচুর রোগী এখানে আসেন। রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়-বন্ধুদের জন্য হাসপাতাল চত্বরে দু’টি সুলভ শৌচালয় রয়েছে। সেগুলি স্বল্পমূল্যে ব্যবহার করতে পারেন রোগীর আত্মীয়রা। কিন্তু অভিযোগ, সেই শৌচালয় দু’টি সন্ধ্যা থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। তার ফলে রাতে খুব অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় রোগীর আত্মীয়দের। সমস্যা বেশি হয় মহিলাদের। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ম অনুযায়ী ভোর পাঁচটা থেকে রাত আটটা অবধি এই শৌচালয় দু’টি খুলে রাখা হয়। শৌচালয় দু’টির একটি রয়েছে প্রসূতি বিভাগের পাশে। অন্যটি হাসপাতালের পুরনো বিল্ডিংয়ের পিছনে। সেই শৌচালয়টির অবস্থা খুব ভালো নয়। ঢোকার মুখে আগাছার জঙ্গল। আশপাশও জঙ্গলে ভর্তি। এই শৌচালয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির দাবি, হাসপাতালের পিছনের দিক ও মর্গের কিছুটা পাশে হওয়ার কারণে দিনের আলো কমলেই এখানে আর কেউ আসেন না। তাই সন্ধ্যার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রোগীদের পরিবারের দাবি, শৌচালয়গুলি শুধুমাত্র দিনের বেলাতেই খোলা থাকে। তারপরে গোটা রাত অসুবিধা পোহাতে হয়। শৌচালয়ের দায়িত্বে থাকা অমিতকুমার মণ্ডল বলেন, ভোর পাঁচটা থেকে রাত্রি আটটা অবধি হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী শৌচালয় খোলা থাকে। তারপরেও কারও অসুবিধা হলে আমরা আরও কিছুক্ষণ খুলে রাখি। যদি হাসপাতালে তরফে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী কাজ হবে। রোগীর পরিবারের সদস্য আব্দুল হান্নান, শেখ মনিরুদ্দিন বলেন, সুলভ শৌচালয়গুলি রাতে বন্ধ থাকার কারণে খুবই সমস্যা হয়। বিশেষ করে পরিবারের মহিলাদের অসুবিধা বেশি হয়। বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার দিবাকর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, সুলভ শৌচালয়গুলি বন্ধ থাকলেও নতুন বিল্ডিংয়ের ইমারজেন্সির শৌচায়গুলি রাতে সকলের ব্যবহারের জন্য খোলা থাকে।



