সংবাদদাতা, বোলপুর: এবার পুজোর আগেই বোলপুর পুরসভায় বাড়িবাড়ি পানীয় জল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বছরের জুন-জুলাই নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে। ফলে পুজোর আগে ২২টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বাড়িবাড়ি জল পাওয়ার আশা রইল না।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অম্রুত প্রকল্পে পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখনও বহু এলাকায় বাড়িবাড়ি সংযোগ দেওয়া শুরু হয়নি। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে পাইপলাইন বসানো হয়েছে। তবে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। পুরসভার দাবি, পুজোর আগে রাস্তা কাটা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পিডব্লুডি এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেতেও দেরি হয়েছে। তাই পুজোর পর পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে। সেই কাজ শেষ করতে আগামী বছরের জুন-জুলাই পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এই প্রকল্পে ১০টি নতুন জলাধার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মাটির গভীর থেকে জল তোলার জন্য ৫৭টি ডিপওয়েল বসানোর কথা। ইতিমধ্যে বেশকিছু ডিপওয়েল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পুরসভার দাবি, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে আগামী ৩০বছর শহরে পানীয় জলের সমস্যা হবে না। শহরের বেশকিছু নতুন এলাকায় এখনও জলকষ্ট রয়েছে। জামবুনি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উদয়নপল্লি, রামকৃষ্ণপল্লি, সবুজপল্লি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সমস্যা রয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। পুরসভার তরফে জলকষ্ট কমাতে কয়েকটি এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব নায়েক বলেন, জলের জন্য এখনও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। পানীয় জলের সংকট রয়েছে। অতি দ্রুত পুরসভা কাজ শেষ করে বাড়িবাড়ি জল পরিষেবা চালু করুক। পাশাপাশি শান্তিনিকেতন এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডেও জলের সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিনামূল্যে বাড়িবাড়ি জলের সংযোগ দেওয়া হবে। পরে জলের মিটার বসানো হবে। ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী মাসিক চার্জ নেওয়া হবে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কিছু জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে। পুজোর সময় রাস্তা কাটলে সমস্যা হবে। সেকারণে এখন কাজের গতি কিছুটা কমেছে। পুজোর পর বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহরের সব ওয়ার্ডে বাড়িবাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই পুরসভার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ২০০০সালে বোলপুরে ইন্দো-জার্মান জল প্রকল্প চালু হয়েছিল। তখন প্রায় সাত হাজার বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়। গত ২৬ বছরে শহরের জনসংখ্যা ও বসতি বেড়েছে। ফলে পুরনো জল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপও বেড়েছে। নতুন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সেই সমস্যা মেটার আশায় রয়েছে শহরবাসী।