নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একবছর হল বিয়ে করেছেন আসানসোলের দিলদারনগরের বাসিন্দা রাহুল সিং। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা ও প্রতিবন্ধী বোন। তাঁর উপার্জনে চলে সংসার। ট্রেনে বিরিয়ানি বিক্রি করে যতটুকু আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে। শনিবারও সেই কাজেই বের হয়েছিলেন রাহুল। তারপরই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। জানা গিয়েছে, এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি বিরিয়ানি বিক্রি করতে উঠেছিলেন। সেই সময় চলন্ত ট্রেনে অভিযান শুরু করে আরপিএফ। তাদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে ট্রেন থেকে তিনি পড়ে যান। তাতে তিনি গুরতর চোট পান। শ্রমিক সংগঠনের লোকজন ও হকাররা তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানেই তাঁরা এনিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, বিষয়টি আমার নজরে নেই। স্থানীয় জিআরপির কাছে গিয়ে খোঁজ নিন।
রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, শিলঘাট টাউন-তাম্বারাম যাত্রা করা নাগাওন এক্সপ্রেস আসানসোল স্টেশন থেকে বার্নপুরের দিকে যাচ্ছিল। শনিবার দুপুরের দিকে ওই ট্রেনে অবাঞ্ছিত লোকজন যাতায়াত করছে কি না, রেলের তরফে তা নিয়ে ধারাবাহিক অভিযান করা হয়। আরপিএফ সেই কাজেই ট্রেনে চেপেছিল। আর ওই ট্রেনেই রাহুল বিরিয়ানি বিক্রি করতে উঠেছিলেন। তখনই পালাতে গিয়ে রাহুল পড়ে যান।
হকারদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেও রেল কোনওরকম মানবিকতা দেখায়নি। খবর শুনে হকাররাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। তারপরই তাঁরা রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
হকারদের দাবি, ট্রেনে হকারি করতে গিয়ে ধরা পড়লে ১০৫০ টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে। হকারের কাছে টিকিট না থাকলে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দিতে হবে। দেশের সমস্ত প্রান্তেই হকাররা ব্যবসা করছেন। শুধু আসানসোলেই হকারি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন ফুড স্টলে আরপিএফকে ব্যবহার করে আমাদের উপর অত্যাচার করছে। এখানেও মোটা টাকা দিলে সমস্ত কিছুতেই ছাড় পাওয়া যাবে। কিন্তু, হকারি করে তা দেওয়া সম্ভব নয়।
আইএনটিটিইউসি নেতা রাজু আলুওয়ালিয়া বলেন, বিজেপি দেশের গরিব মানুষকে ভাতে মারার ছক কষেছে। হকাররা ট্রেনে হকারি না করলে তাঁদের সংসার চলবে কী করে? উল্টে ট্রেনে হকারি করলে আরপিএফ অত্যাচার করছে। এই ধরনের একাধিক ঘটনা হয়েছে। ছেলেটির পা কেটে বাদ দিতে হতে পারে। রেলকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।