নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে মূক ও বধির নাবালিকাকে ধর্ষণ! নারকীয় এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী কাকা। গত ১২ মার্চ ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায়। পরদিন পরিবারের তরফে হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী কাকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। রীতিমতো সক্রিয়তার সঙ্গে চলছে ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, হাঁসখালি থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকার বয়স ১৭বছর। আর্থিকভাবে প্রান্তিক পরিবারের বড় মেয়ে নির্যাতিতা। ছোটবেলা থেকেই সে মূক ও বধির। প্রতিদিন সেই মেয়েকে বাড়িতে রেখেই লোকের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতে যান মা। ঘটনার দিনও সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বেরিয়ে যান তিনি। কিন্তু দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখেন মেয়ে আতঙ্কে ঘরের এককোণে কুঁকড়ে বসে রয়েছে। শরীরের নিম্নাংশের বস্ত্র ছেঁড়া। মেয়ের অবস্থা দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি মায়ের। রীতিমতো হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করেন তিনি। পরে মেয়ের কাছে জানতে চান, কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তখন নির্যাতিতা তার মাকে পাশের বাড়ির দিকে ইশারা করে দেখায়। ওই নাবালিকার মা ‘বর্তমান’কে বলেন, মেয়ে মূক ও বধির হওয়ায় চেঁচিয়ে কাউকেই ডাকতে পারেনি। প্রতিবেশী ওই লোকটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালোই ছিল। মাঝেমধ্যেই সে আমাদের বাড়ি আসত। সেদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ও আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে আমি ওদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি, ও কেন এত বড় সর্বনাশ করল। আমার মেয়েরা ওকে ‘কাকু’ বলে ডাকে। তখন ওই লোকটির বাড়ির লোক আমাকে টাকা দিয়ে ঘটনার কথা চেপে যেতে বলে। ওরা বলে, যা হয়েছে ভুলে যাও। কিন্তু আমি টাকা নিতে চাইনি। আমি সোজা হাঁসখালি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। বিষয়টি জানার পর থেকেই পুলিস আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বছর তিরিশের বিবাহিত যুবক। বাড়িতে স্ত্রী ও দু’বছরের একটি বাচ্চা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার দিন মেয়ের মাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে অভিযুক্ত। তখন সে গুটিগুটি পায়ে এসে ঢোকে ওই নাবালিকার ঘরে। খুব সম্ভবত সেখানেই তাকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে হাঁসখালি থানা। নির্যাতিতার মা পুলিসের দ্বারস্থ হচ্ছেন জেনে প্রথমে অভিযুক্ত গা ঢাকা দেয়। পরে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে তাকে ওই গ্রাম থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম সহযোগিতা করছি। অভিযোগ আসার পরেই মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা তাড়াতাড়ি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। বাকি তদন্ত চলছে।