সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: খোদ স্কুল ইন্সপেক্টরের অফিসের নাকের ডগায় ভেঙে পড়ছে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের ছাদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ির নীচে ক্লাস করছে খুদেরা। এমনই ছবি নবদ্বীপের সরকারপাড়া হাইল্যান্ড কলোনির অমিয় রায় শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের। মজার কথা, এই স্কুল এবং এসআই অফিস একই ওয়ার্ডে রয়েছে। স্কুলের ভগ্নদশার কথা সকলেই জানেন। অথচ কেউই সংস্কারের বিষয়ে গরজ দেখান না। পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসনের কোনও হুঁশ নেই বলে অভিযোগ। বারবার এসআই অফিসে আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা।
যদিও নবদ্বীপ আরবান সার্কেলের এসআই শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেন, আমাকে কেউই কিছু লিখিতভাবে দেননি। তাছাড়া, শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের বিষয়টি আমি দেখি না। তবে স্কুল লিখিত দিলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জানাব।
প্রধান শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার বিষয়ে এসআই অফিস, প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানিয়ে আসছেন। শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটিতে মিড ডে মিল রান্নার ঘর নেই। অন্য একটি স্কুল থেকে খাবার রান্না করে আনতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষিকারা জানান, ভবনের ভগ্নদশার কারণে অনেক অভিভাবকই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ফলে ক্রমশ ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে আসছে।
নবদ্বীপ পুরসভার ১৬নম্বর ওয়ার্ডের সরকারপাড়া হাইল্যান্ড কলোনিতে ২০০৪ সালে এই অমিয় রায় শিশু শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপিত হয়। এখানে সরকারপাড়া, হাইল্যান্ড কলোনি, রেল লাইনের পাড় সহ আশপাশ এলাকার পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে। ৪৪জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষিকা রয়েছেন মাত্র দু’জন। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে স্কুল বিল্ডিং নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। তাতে সমস্যা আরও বেড়েছে। চারিদিকে ঝোপ-জঙ্গল গজিয়ে গিয়েছে। ছাদের বেশকিছু অংশ ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে গিয়েছে। এতদিন বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ত। এখন সেই ছাদ ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। ক্লাসরুমে দরজা-জানলা নেই। ক্লাস করতে সমস্যায় পড়ছে খুদে পড়ুয়ারা। বেশকিছু পড়ুয়াকে সিঁড়ির নীচেও ক্লাস করতে হয়। এমনকী, স্কুলে কোনও সীমানা প্রাচীর নেই। চারিদিক অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন রয়েছে।
শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান শিক্ষিকা পূর্ণিমা পাল বলেন, এখানে প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হয়। দু’টি শ্রেণিকক্ষের একটি মাঝারি ও অন্যটি ছোট। ঘরের অভাবে পঠনপাঠনের সমস্যা হচ্ছে। অন্য একটি স্কুল থেকে মিড ডে মিল রান্না করে নিয়ে এসে তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই ওয়ার্ডেই এসআই অফিস রয়েছে। সেখানেও বারবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। প্রতিবছরই যখন স্কুলের কাগজপত্র জমা দিতে যাই, তখনও এসআই অফিসে সমস্যার কথা বলি।
চতুর্থ শ্রেণির তন্ময় দেবনাথ, ইতি দেবনাথ, দ্বিতীয় শ্রেণির অদিতি দেবনাথরা বলে, বৃষ্টির সময় স্কুলের ছাদ দিয়ে জল পড়ে ভেসে যায়। তখন পড়াশোনা বন্ধ থাকে। হাইল্যান্ড কলোনির বাসিন্দা তথা অভিভাবক শুভ দে বলেন, আমার মেয়ে শালিনী প্রি-প্রাইমারিতে পড়ে। স্কুল ভাঙাচোরা, প্লাস্টার নেই। মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকি।
স্থানীয় কাউন্সিলার নিতাইচন্দ্র দাস বলেন, আমরা চাই বিল্ডিংটা পড়াশোনার উপযোগী করে গড়ে তুলতে। বুধবার ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির হয়েছিল। সেখানে এলাকার মানুষজন প্রশাসনের আধিকারিকদের সামনে স্কুলের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।