Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

রোনাল্ডোর কান্নায় বিষাদ নেই, আছে সাফল্যের আনন্দ

টাই-ব্রেকারের সময় তিনি রিজার্ভ বেঞ্চে। সহ-ফুটবলারের কাঁধের আড়ালে মুখ

রোনাল্ডোর কান্নায় বিষাদ নেই, আছে সাফল্যের আনন্দ
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ বসু, কলকাতা: টাই-ব্রেকারের সময় তিনি রিজার্ভ বেঞ্চে। সহ-ফুটবলারের কাঁধের আড়ালে মুখ। গনসালো র‌্যামোস-রুবেন নেভাসরা জাল কাঁপানোর মুহূর্তের সাক্ষী হতে চান না তিনি। তাহলে স্নায়ুর চাপ স্পর্শ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও? আসলে দশকের পর দশক মহাতারকার আসনে বসলেও তিনি তো মানুষ। আবেগের বিস্ফোরণই তাই স্বাভাবিক। রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজাতেই শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে এই নোনতা জলে বিষাদ নেই, আছে ট্রফি জয়ের আনন্দ। 

Advertisement

ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবের ক্লাবে নাম লেখানোর সময় অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছিল রোনাল্ডোকে। বৃদ্ধ তকমা গায়ে সেঁটেই খেলতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ট্রফি জয়ের খিদে বিন্দুমাত্র কমেনি। এই উয়েফা নেশনস লিগই তার বড় উদাহরণ। সেমি-ফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল তাঁরই। আর ফাইনালে রোনাল্ডোর লক্ষ্যভেদেই লাইফলাইন পায় পর্তুগাল। তাই তো ম্যাচ শেষে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলতে পারেন, ‘স্পেনে একাধিক তারকা আছে। কিন্তু মহাতারকা তো আমাদের দলেই।’
রোনাল্ডো চিরকালই এক্সটোভার্ট। ফুটবল মাঠে তাঁর অভিব্যক্তির মধ্যে কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় নেই। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে বলতে পারেন, ‘আয়াম দ্য বেস্ট’। শুধু বলেন না, সেই মতো ঘামও ঝরান। বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি সব তাঁর ক্যাবিনেটে। ফুটবল কেরিয়ারের সায়াহ্নে পৌঁছেও তিনি পাল্লা দেন কমবয়সিদের সঙ্গে। ট্রফি স্পর্শ করার মুহূর্তে অনেকে ঘটনাই তাঁর স্মৃতিপটে এসেছে। কাতার বিশ্বকাপে কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোসের বঞ্চনা, সহ-ফুটবলার ব্রুনো ফার্নান্ডেজের টিপ্পনি এবং আরও কত কী। কিন্তু মাঠ, থুড়ি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালাননি তিনি। নতুন কোচ রবার্তো মার্তিনেজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাকিদের উদ্দীপ্ত করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন। বিরাট কোনও অঘটন না ঘটলে আগামী বিশ্বকাপেও খেলবেন রোনাল্ডো। ৪১ বছর বয়সেও চেষ্টা চলবে বিশ্বসেরা হওয়ার। বাকিটা সময়ের গর্ভে। 
সাম্প্রতিক পারফম্যান্স অনুযায়ী, ফাইনালে স্পেনই ছিল ফেভারিট। কিন্তু পর্তুগালের নাছোড় মনোভাব তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। ডিয়োগো কস্তা-বের্নার্ডো সিলভা-ভিতিনহাদের নেতৃত্ব দিলেন সেই রোনাল্ডো। প্রতিটি বলের জন্য তাঁর ঝাঁপানো সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এভাবেই সিআরসেভেনকে দেখতে চান অনুরাগীরা। তাঁদের জন্য মহাতারকার আশ্বাস, ‘আপনাদের ভালোবাসাই আমার সম্পদ। ইউরোপের কোনও ক্লাবে না খেললেও ফুটবলের প্রতি দায়বদ্ধতা একইরকম আছে। আগামী দিনে আল-নাসেরেই খেলব। পর্তুগালকে আরও সাফল্য এনে দিতে চেষ্টার কসুর থাকবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ