Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মনস্তাত্ত্বিক বাধাই বঙ্গ ক্রিকেটের কাঁটা: উৎপল

সালটা ২০০৩। অবসর নিলেন উৎপল চ্যাটার্জি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তখন তাঁর উইকেট সংখ্যা ৪৯৯

মনস্তাত্ত্বিক বাধাই বঙ্গ ক্রিকেটের কাঁটা: উৎপল
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সালটা ২০০৩। অবসর নিলেন উৎপল চ্যাটার্জি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তখন তাঁর উইকেট সংখ্যা ৪৯৯। পরের মরশুমে রনজিতে খারাপ পারফরম্যান্সের জেরে অবনমনের খাঁড়া বাংলার মাথায়। অগত্যা ডাক পড়ল ‘ডেভিড’-এর। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে নিলেন ৫ উইকেট। অবনমন এড়াল বাংলা। আর তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৫০৪। বাংলার শেষ রনজি জয়েও রয়েছে অবদান। খেলা ছাড়ার পর কোচ হিসাবে জড়িয়ে ব্যাট-বলের সঙ্গে। ময়দানের সেই হার-না-মানা যোদ্ধাকে এবার জীবনকৃতি সম্মান দিচ্ছে সিএবি। 

Advertisement

 এই সম্মান কি আরও আগেই পাওয়া উচিত ছিল? 
উৎপল: পুরস্কার পেলেই ভালো লাগে, আগে-পরের ব্যাপার নয়। আর এই সম্মান প্রতি বছর একজনকেই দেওয়া হয়, সবাইকে একসঙ্গে দল বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়। যখন আমার টার্ন এসেছে, দিয়েছে। জীবনের এই লগ্নে এসে জীবনকৃতি সম্মান পেয়ে ভালোই লাগছে।
 দীর্ঘ কেরিয়ারে সবচেয়ে তৃপ্তির মুহূর্ত কোনটা? 
উৎপল: পাড়ার ক্রিকেট থেকে শুরু করে ভারতের হয়ে খেলা— সবটাই সমান আন্তরিকতার। তবে কিছু মুহূর্ত আলাদা করে মনে গেঁথে আছে। আমার নেতৃত্বে এরিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয়। রনজি ট্রফি জয়ও বিশেষ মুহূর্ত। আর অবসর ভেঙে বাংলাকে প্লেটে নামা থেকে আটকানোর তৃপ্তি তো আছেই।
 চোটের জন্য বাঁ-হাতি পেসার থেকে স্পিনার হিসাবে প্রত্যাবর্তন। কতটা কঠিন ছিল?
উৎপল: দু’বছর বাইরে ছিলাম। সেটা খুবই কঠিন সময়। চিন্তায় থাকতাম, জীবন থেকে ক্রিকেট সরে গেলে কী করব? সময় কাটবে কীভাবে? তারপর আস্তে আস্তে আস্তে স্পিন বোলিং শুরু করি।
 দেশের হয়ে যদিও ব্রাত্যই থাকতে হয়েছে। ম্যাচের সংখ্যা মাত্র তিনটি। আপশোস নেই?
উৎপল: না, কোনো আক্ষেপ নেই। ক্রিকেট খেলতে শুরু করার সময় এত কিছু পাওয়ার কথা ভাবিনি। তাই যা পেয়েছি সেটাই অনেক। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম ম্যাচে আমি একটা ক্যাচ ফেলেছিলাম। বাদ পড়ার জন্য ওই মিসকেই সবাই বড় করে দেখিয়েছিল। এটা খুবই দুঃখজনক। বোলারের মূল্যায়ন কিন্তু বোলিং দিয়ে হওয়া উচিত।
 ১৯৮৯-৯০ মরশুমের পর বাংলা আর রনজি জেতেনি। সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে?
উৎপল: রনজি ফাইনালে ওঠার পর আটকে যাওয়ার ব্যাপারটা একটা মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে উঠছে। দলের মধ্যে তা ক্রমশ বাড়ছে। আর এটাই বঙ্গ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড়ো কাঁটা। এই মানসিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। তবেই বাংলা আবার রনজি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ