Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদ্রা ডিভিশনে সপ্তাহজুড়ে রোলিং ব্লক

রুটিন বদলি নয়। তাই প্রতি সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন সপ্তাহব্যাপী রোলিং ব্লক নিয়েছে।

আজ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদ্রা ডিভিশনে সপ্তাহজুড়ে রোলিং ব্লক
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রুটিন বদলি নয়। তাই প্রতি সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন সপ্তাহব্যাপী রোলিং ব্লক নিয়েছে। ফলে পুরুলিয়ায় শীতের মরশুমে ঘুরতে আসা পর্যটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা সবচেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।

Advertisement

রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্র্যাক মেশিন, সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ডিভিশন জুড়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হবে। যার জন্য আজ, সোমবার থেকে আগামী ১৪ ডিসেম্বর রবিবার পর্যন্ত বেশ কিছু ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়বে। যাত্রীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই আগাম প্রতিটি স্টেশনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলের সিদ্ধান্তের ফলে এলাকার মুটে, মজদুর, হকাররা মার খাচ্ছেন।
আদ্রা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৮০৭৭/৬৮০৭৮ (আদ্রা -ভাগা) দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ৮ থেকে ১৪ ডিসেম্বর চলাচল করবে না। অন্যদিকে, ৬৮০৪৬ / ৬৮০৪৫ (আসানসোল -আদ্রা) দৈনিক প্যাসেঞ্জার ৯ ডিসেম্বর পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ১৮৬০২ /১৮৬০১ (হাটিয়া - টাটা) দৈনিক এক্সপ্রেস ১৩ ডিসেম্বর, এবং ৬৮০৫৩/ ৬৮০৫৪ (আদ্রা - বরাভূম) দৈনিক প্যাসেঞ্জার ১৪ ডিসেম্বর চলাচল বন্ধ থাকবে।
পরিষেবা বন্ধের পাশাপাশি কিছু ট্রেনের যাত্রা পথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৮০১৯ / ১৮০২০ (ঝাড়গ্রাম- ধানবাদ) দৈনিক এক্সপ্রেস ৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ১৪ ডিসেম্বর বোকারো স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। ওই দিনগুলিতে ট্রেনটির পরিষেবা বোকারো - ধানবাদের মধ্যে বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, ১৩৫০৩/১৩৫০৪ (বর্ধমান -হাটিয়া) দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ৯ থেকে ১৪ ডিসেম্বর গোমো পর্যন্ত চলাচল করবে। ট্রেনটির পরিষেবা গোমো থেকে হাটিয়ার মধ্যে বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ৬৮০৫৬ / ৬৮০৬০ (টাটা -আসানসোল -বরাভূম) দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ৯ ডিসেম্বর এবং ৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩ (আসানসোল -পুরুলিয়া) দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেন ১৪ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে।
এছাড়া, ১৮০৩৫ (খড়গপুর -হাটিয়া) দৈনিক এক্সপ্রেস ১৪ ডিসেম্বর খড়গপুর থেকে ১৫০ মিনিট, ১৮১৮৪ (বক্সার -টাটানগর) দৈনিক এক্সপ্রেস ১৪ ডিসেম্বর বক্সার থেকে এক ঘণ্টা এবং ৬৮০৮৮ (ধানবাদ -বাঁকুড়া) দৈনিক মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ৯,১৩ এবং ১৪ ডিসেম্বর ধানবাদ থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘন্টা দেরিতে ছাড়বে।
আসানসোল এলাকায় স্কুল, কলেজ এবং কোচিংয়ে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রিয়া ঘটক, সৌম্যদীপ সরকার, আশুতোষ মাজিরা বলেন, ট্রেনের জন্য প্রতিদিন দু’ঘণ্টা আগে স্টেশনে এসে পৌঁছাতে হয়। কারণ কোন দিন কোন ট্রেন বন্ধ থাকে সেটা বোঝা মুশকিল। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার দিনগুলিতে অসুবিধায় পড়ি। ট্রেনই একমাত্র ভরসা। বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে গেলে প্রচুর টাকা খরচা হয়।
সকাল হলে আসানসোল, বার্ণপুরে দিনমজুরের কাজে যাওয়া রমনী বাস্কে, সুবল বাউরিরা বলেন, বিভিন্ন বাড়ি তৈরির কাজে দিনমজুরের কাজ করতাম। প্রতিদিন কাজ পেতাম। কিন্তু এখন ট্রেন যোগাযোগ ঠিক না থাকায় এলাকায় কাজ করছি। তাতে সব দিন কাজ পাওয়া যায় না। আমাদের মতো মানুষের কথা ভাবার জন্য নেতা-মন্ত্রী, রেল কারওর সময় নেই।
রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দিকটি খেয়াল রেখেই রোলিং ব্লক নেওয়া হয়। রুটিন মতো প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন শাখায় ব্লক নেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ